NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা জোরদারে নতুন সমঝোতা বেইজিং-বেলগ্রেডের


আন্তর্জাতিক: প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা জোরদারে নতুন সমঝোতা বেইজিং-বেলগ্রেডের

২৫ মে (সোমবার) বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীন সফরে আসা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ বৈঠক করেছেন।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে সার্বিয়ায় তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ যৌথভাবে নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। বিগত দুই বছরে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে, যা কেবল দুই দেশের মানুষের কল্যাণই করেনি, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"

তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের উচিত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা, সহযোগিতা গভীর করা এবং একে অপরকে নিঃশর্ত সমর্থন জোগানো; যাতে যৌথভাবে অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি উজ্জ্বল পথ তৈরি করা যায় এবং চীন-সার্বিয়া সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, চীন ও সার্বিয়ার একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা অব্যাহত রাখতে হবে। চীন সার্বিয়ার নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ইচ্ছুক। চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায়  উচ্চ-মানসম্পন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্পূর্ণরূপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে হবে, বেল্ট অ্যান্ড রোড  উদ্যোগের মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং শিল্প পরিবর্তনের ঢেউয়ের মুখে দুই দেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ জ্বালানি এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে, যাতে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করা যায়।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের  ভিসা-ফ্রি + মুক্ত বাণিজ্য + সরাসরি বিমান যোগাযোগ—এই ত্রিমাত্রিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সংস্কৃতি, শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা সর্বাত্মকভাবে প্রসারিত করতে হবে, যাতে চীন ও সার্বিয়ার জনগণের ঐতিহ্যবাহী লৌহকঠিন বন্ধুত্ব  প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকে। এ ছাড়া, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশকে বৈশ্বিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা চর্চার মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গঠনে নিরলস কাজ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তাঁর বক্তব্যে চীনকে সফলভাবে পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন যে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীন আরও বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে।

ভুচিচ বলেন, সার্বিয়া ও চীনের মধ্যে সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে গেছে। সার্বিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে রয়েছে এক অটুট "লৌহকঠিন বন্ধুত্ব"। সার্বিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধানে চীনের সমর্থনকে সার্বিয়ার জনগণ কখনোই ভুলবে না। একই সাথে তিনি সার্বিয়ার জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, সার্বিয়া চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং চীনের মূল স্বার্থের সাথে জড়িত সব ইস্যুতে অবিচলভাবে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে। সার্বিয়া চীনের সাথে উচ্চ-মানসম্পন্ন বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা গভীর করতে, প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে এবং আরও বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জনে মুখিয়ে আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন একটি পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা সার্বিয়ার মতো ছোট দেশকে সমতা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সার্বিয়া প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় চীনের সঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে প্রস্তুত।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া, উভয় পক্ষ যৌথভাবে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল প্রকাশ করেছে। তা হলো- গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে, এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: যৌথভাবে চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে।

বৈঠকের পূর্বে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং স্ত্রী মাদাম ফেং লি ইউয়ান প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ এবং ফার্স্ট লেডি তামারা ভুচিচকে স্বাগত জানিয়ে একটি জমকালো রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ দিন সন্ধ্যায় ভুচিচ দম্পতির সম্মানে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়।