NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বেইজিংয়ে ট্রাম্প, শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন পেশাগত দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: আইজিপি ব্যাজ অর্জন করলেন- বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের New York to Host 35th International Bengali Book Fair Featuring More Than 10,000 Books নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন
Logo
logo

বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন গতি আনতে চায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র


আন্তর্জাতিক: প্রকাশিত:  ১৫ মে, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন গতি আনতে চায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র

১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীনে রাষ্ট্রীয় সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠককালে সি চিন পিং বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ কাটিয়ে উঠে প্রধান দেশগুলোর সম্পর্কের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? আমরা কি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে এবং বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারবো? আমরা কি উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ ও মানবতার ভবিষ্যতের ওপর মনোযোগ দিয়ে যৌথভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবো? এগুলো ইতিহাসের প্রশ্ন, বিশ্বের প্রশ্ন এবং জনগণের প্রশ্ন; প্রধান শক্তিগুলোর নেতাদের যৌথভাবে এর উত্তর লিখতে হবে। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চীন-মার্কিন সম্পর্কের জাহাজকে ভালোভাবে চালনা করতে এবং ২০২৬ সালকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বছর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

জনাব সি জোর দিয়ে বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই উন্নয়নে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি চীন-মার্কিন সম্পর্কের একটি নতুন অবস্থান হিসেবে ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়েছি। এটি আগামী তিন বছর এবং তার পরেও চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং আমি বিশ্বাস করি, এটি উভয় দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে সমাদৃত হবে।
সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্কের সারমর্ম হলো পারস্পরিক সুবিধা এবং উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর সহযোগিতা। মতপার্থক্য ও মতবিরোধের সম্মুখীন হলে সমতাভিত্তিক আলোচনাই হলো একমাত্র সঠিক পথ।


সি চিন পিং আরও জোর দিয়ে বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি এটি ভালোভাবে সামলানো যায়, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক সার্বিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। আর এটি খারাপভাবে সামলানো হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বা এমনকি সংঘর্ষও হতে পারে, যা সমগ্র চীন-মার্কিন সম্পর্ককে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে। “তাইওয়ানের স্বাধীনতা” এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়। তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিলের জায়গা। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে তাইওয়ান বিষয়টি সামলাতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক খুব ভালো। আমি এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে দীর্ঘতম ও সর্বোত্তম সম্পর্ক স্থাপন করেছি, বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রেখেছি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করেছি। 


প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন মহান নেতা এবং চীন একটি মহান দেশ। প্রেসিডেন্ট সি এবং চীনের জনগণের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আজকের বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যা বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আমি প্রেসিডেন্ট সি’র সাথে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে, যথাযথভাবে মতপার্থক্য দূর করতে, ইতিহাসে সেরা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং উভয় দেশের জন্য আরো উজ্জ্বল একটি ভবিষ্যৎ গড়তে ইচ্ছুক। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতা উভয় দেশ এবং বিশ্বের জন্য অনেক মহৎ ও কল্যাণকর কাজ করতে পারে। এই সফরে আমি আমেরিকান ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি। তাঁরা সকলেই চীনকে সম্মান ও মূল্য দেন এবং আমি তাঁদেরকে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করি।”

দুই রাষ্ট্রপ্রধান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউক্রেন সংকট এবং কোরীয় উপদ্বীপসহ প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি, দুই রাষ্ট্রপ্রধান এ বছরের অ্যাপেক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে একে অপরকে সমর্থন করতে সম্মত হন।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যবসায়ী নেতাদের সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একে একে পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে, সি চিন পিং মহা গণভবনের পূর্ব গেট স্কোয়ারে ট্রাম্পের সম্মানে একটি জমকালো স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

সূত্র:লিলি-তৌহিদ-আনন্দী,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।