NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

‘লুণ্ঠিত ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে হবে’-আন্তর্জাতিক জনমতে বাড়ছে চাপ


খবর   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

‘লুণ্ঠিত ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে হবে’-আন্তর্জাতিক জনমতে বাড়ছে চাপ

সম্প্রতি ফরাসি সংসদ অন্য দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি বিল পাস করেছে। বিদেশে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিলটি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, ৬৭.৬% উত্তরদাতা মনে করেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে ফ্রান্স তার ঔপনিবেশিক লুণ্ঠনের ইতিহাস আইনগতভাবে স্বীকার ও সংশোধনের দিকে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন এই বিলটি দেশটির 'হেরিটেজ কোড'-এ প্রাসঙ্গিক বিধান যুক্ত করেছে, যা ফেরতের মানদণ্ড পূরণকারী বিদেশি সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোকে সরকারি সংগ্রহশালা বা জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলার অনুমতি দেয়। এর ফলে প্রশাসনিক পদ্ধতির মাধ্যমেই নিদর্শন ফেরত সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুমোদন করা যাবে; প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হবে না। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯০.৮% উত্তরদাতা অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করার ফরাসি সংসদের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। 

দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের সরকারি জাদুঘরগুলোতে ঔপনিবেশিক আমলের বিপুল পরিমাণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যমান ফরাসি আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো নীতিগতভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয়। এগুলো ফেরত দিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হতো, যা প্রক্রিয়াটিকে বেশ জটিল করে তুলত। ৮৫.৪% উত্তরদাতার মতে, ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর 'সাংস্কৃতিক নিদর্শন লুণ্ঠনকে বৈধতা দেওয়ার' ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক নিদর্শন নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।

তবে এই বিলটি পুনরুদ্ধারযোগ্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন শনাক্তকরণের মানদণ্ড এবং ফেরত প্রক্রিয়ার ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাবাসনের অনুরোধ এবং সেগুলোর অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে ফরাসি সরকারকে সংসদে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ৯১.১% উত্তরদাতা মনে করেন, বিলটি পাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত আসবে। বরং, অবৈধভাবে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরত আনা এখনও একটি দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

সাংস্কৃতিক নিদর্শন হলো একটি জাতি ও তার জনগণের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা ও বাহক, যা একটি জাতির সাংস্কৃতিক বংশধারা বহন করে। লুণ্ঠিত এসব সাংস্কৃতিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা প্রতিটি ভুক্তভোগী দেশেরই সাধারণ আকাঙ্ক্ষা। জরিপে দেখা গেছে, ৯১.১% উত্তরদাতা মনে করেন, ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ এবং যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোর দখল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তারা এগুলো অবিলম্বে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৯৬.৫% উত্তরদাতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর আওতায় আরও বাধ্যতামূলক ও প্রয়োগযোগ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে লুণ্ঠিত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং স্থানচ্যুত এসব শিল্পকর্ম দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে পারবে।

সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে জরিপটি প্রকাশ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪,১২৭জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সূত্র:লিলি-তৌহিদ-আনন্দী,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।