আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ঐতিহ্যবাহী রঙিন সাজসজ্জা, দক্ষিণ এশীয় পিঠা-পায়েসসহ বাহারি খাবারের সুবাস ও উৎসবের প্রাণবন্ত আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মেরিল্যান্ডের শ্যাডি গ্রোভ মিডল স্কুল প্রাঙ্গণ। ৫ম বার্ষিক দক্ষিণ এশীয় বৈশাখী উৎসব শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গেইথার্সবার্গের শ্যাডি গ্রোভ মিডল স্কুলে জমকালো আয়োজনে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশি আমেরিকান কাউন্সিল, ইনক. (বিএসি) আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কান, নেপালি ও ভুটানি কমিউনিটির হাজারো সদস্য অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত স্কুল প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আনিস আহমেদ যিনি মন্টগোমারি কাউন্টির একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। বিশেষ অতিথি ও প্রধান সমর্থক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান এপ্রিল ডেলানি। তাঁর স্বামী, সাবেক কংগ্রেসম্যান জন ডেলানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এপ্রিল ডেলানি বাংলাদেশে তৈরি শাড়ি এবং জন ডেলানি পাঞ্জাবি পরিধান করে দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি উৎসবে যোগ দিয়ে দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের সমাজে অবদানের উচ্চ প্রশংসা করে বলেন,“এই প্রাণবন্ত কমিউনিটির সঙ্গে দাঁড়িয়ে সংস্কৃতি, ঐক্য ও আমেরিকান স্বপ্ন উদযাপন করতে পেরে আমি সম্মানিত। বৈশাখী উৎসবের মতো এই ধরনের অনুষ্ঠান মেরিল্যান্ডের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।” দক্ষিণ এশীয় বৈশাখী আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ: মার্ক এলরিচ, কাউন্টি এক্সিকিউটিভ, মন্টগোমারি কাউন্টি, নাতালি ফানি-গনজালেজ, কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট, মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল, ব্রায়ান ফেল্ডম্যান, সিনেটর ও শিক্ষা, জ্বালানি ও পরিবেশ কমিটির চেয়ারম্যান,হ্যারি ভান্ডারি, পিএইচডি, ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড জোনিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান, মেরিল্যান্ড জেনারেল অ্যাসেম্বলি, গ্রেগ উইমস, ডেলিগেট, মেরিল্যান্ড জেনারেল অ্যাসেম্বলি, অ্যান্ড্রু ফ্রিডসন, হন. ইভান গ্লাস, হন. লরি-অ্যান সেলস, হন. উইলিয়াম জাওয়ান্দো — মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ, মিস ক্রিস্টিনা পয়, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেক্টর, মেরিল্যান্ড গভর্নরের কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভস অফিস, ড. রাজন নটরাজন, সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট, মেরিল্যান্ড, দেবাং শাহ, ট্রেজারার, মেরিল্যান্ড স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্টগোমারি কাউন্টি এক্সিকিউটিভ মার্ক এলরিচ ৫ম বার্ষিক দক্ষিণ এশীয় বৈশাখী উৎসব উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিপুল এলিট গনছালভেসসহ নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের সার্টিফিকেট প্রদান করেন: তারিক মেহেদী, মিল্টন, হৃদয় পেরেরা, মেহরিনে উল্লাহ, নাউরিন হোসেন, নিক রোয়ান, নোরা আহসান ও ফারিয়েল আহসান। অনুষ্ঠানে ছিল দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সংগীত ও নৃত্য, শিশুদের নানা আয়োজন, ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি, বিরিয়ানি, মেলা, সুস্বাদু দক্ষিণ এশীয় পিঠা-খাবার ও মিষ্টান্নের স্টল, পুতুল নাচসহ নানা আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল Shadow Dreams ব্যান্ডের পরিবেশনা — যেখানে বাংলা সুরের সঙ্গে রক সঙ্গীতের শক্তিশালী মেলবন্ধন ঘটে। সবশেষে জনপ্রিয় শিল্পী সাইরা রেজা’র মনমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলেন জনাব মিজানুর রহমান ও রাহালা রহমান সুইটি। স্পন্সর হিসেবে ছিলেন— দেশি স্বাদ হোলসেল ব্যবসার মালিক নিয়েম চৌধুরী, ব্যবসায়ী এজেএম হোসেন, মজনু মিয়া, ডা. নুরুল এ. চৌধুরী, কবিরুল ইসলাম, সোমা গমেজ এবং মইন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসওম্যান এপ্রিল ডেলানির পক্ষ থেকে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য মেট্রো ওয়াশিংটনের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এ সময় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন: বিশিষ্ট শিক্ষা উদ্যোক্তা ও টেক এক্সপার্ট আবুবকর হানিফ (চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক নিক রোয়ান, ভার্জিনিয়া ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির কর্ণধার আবু রুমি, একাত্তর ফাউন্ডেশনের স্বপ্নদ্রষ্টা কবির ও পারভীন পাটুয়ারীসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ।
উল্লেখ্য, আয়োজক কমিটির সদস্যরা হলেন—আনিস আহমেদ,(প্রেসিডেন্ট), মিজানুর রহমান (ভাইস প্রেসিডেন্ট), সেলিম হোসেন (সাধারণ সম্পাদক), মোহাম্মদ উল্লাহ (ট্রেজারার), শতরূপা বড়ুয়া (সাংস্কৃতিক সমন্বয়ক), শিরীন চৌধুরী (সদস্য), নাজমা মওলা (সদস্য) এবং নাসিমা আহমেদ (সদস্য)। বাংলাদেশি আমেরিকান কাউন্সিলের এক প্রতিনিধি বলেন, “এই উৎসব শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন এবং মেরিল্যান্ডে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রতীক।”