NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
৫৩ বছর পর আবার গৌরবের প্রত্যাবর্তন: নিউ ইয়র্ক নিক্সকে ঘিরে এক শহরের স্বপ্ন, এক জাতির উচ্ছ্বাস - আকবর হায়দার কিরন রোকেয়া হায়দার: যে কণ্ঠস্বর পেরিয়েছে মহাসাগর - আকবর হায়দার কিরন রবিন খুদা: ঢাকা থেকে বিশ্ব প্রযুক্তির শীর্ষে এক বাংলাদেশির বিস্ময়কর যাত্রা -আকবর হায়দার কিরন কুলাউড়ার সন্তান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
Logo
logo

গাছভর্তি টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ১৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

গাছভর্তি টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :

ষড়ঋতুর এ দেশে ঋতুচক্রের ছোঁয়ায় প্রকৃতির বুকে ফোটে নানা নাম ও রঙের ফুল। এসব ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অপার সৌন্দর্যের আবরণে। নয়নাভিরাম এসব ফুলের মায়ায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও সজীব, আরও মোহনীয়।  গ্রীষ্মের শুরুতেই বগুড়ায় প্রকৃতিতে ফুটেছে তেমনই এক মনভুলানো ফুল আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এই অপরূপ ফুল। কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়ায় গ্রীষ্মের প্রকৃতি হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির এই চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।  জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি শোভাবর্ধক বৃক্ষ। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি আগুনচূড়া, লালচূড়া বা গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া ফুল সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হয়, যা দূর থেকে আগুনের শিখার মতো দেখায়। তবে এদের মধ্যে কমলা এবং হলুদ রঙের বৈচিত্র্যের প্রজাতিও দেখতে পাওয়া যায়। এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। কৃষ্ণচূড়া সাধারণত বসন্তের শেষ দিকে ও গ্রীষ্মের শুরুতে প্রস্ফুটিত হয়ে প্রকৃতিকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তোলে।  সরেজমিনে বগুড়া বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আশপাশের কৃষ্ণচূড়া গাছজুড়ে ফুটেছে গাঢ় লাল রঙের ফুল। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সবুজ প্রকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকে যেন লাল আগুন জ্বলে উঠেছে। নজরকাড়া সৌন্দর্য নিয়ে ফোটা এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সববয়সী মানুষ। এ ফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন। কেউ বা আবার ফুলসমেত নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করছেন। কিশোরী ও তরুণীরা তাদের চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে এ ফুল খোঁপায় ও বেনিতে ব্যবহার করছেন। শিশুদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এ ফুল।  ফুলপ্রেমী আখতার হোসেন বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলে মনে হয় গ্রীষ্ম সত্যিই এসে গেছে। এই ফুলের রঙ আর সৌন্দর্য আমাদের মন ভালো করে দেয়। ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়। এ সময়টায় বাইরে বের হলেই যত্রতত্র চোখে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ফুল।  স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। এসব গাছে যখন ফুল ফুটে, তখন পুরো পরিবেশটাই যেন রঙিন হয়ে ওঠে। কৃষ্ণচূড়ার রঙিন এ দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীরা এই সময় গাছের নিচে ছবি তুলতে বেশি আগ্রহী হয়।  আরেক ফুলপ্রেমী ও বগুড়া আজিজুল হক ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী জেনিফা রহমান মারিয়াম বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি ফুল নয়, এটি আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই সময়টায় প্রকৃতির প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।

চলতি পথে এ ফুল চোখ কেড়ে নেয়। যেকোনো বয়সী মানুষই এই সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছে। আমাদের কলেজের প্রধান ফটকের সামনেও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। আমরা এর সৌন্দর্য উপভোগ করি।  স্কুল শিক্ষক সাহিন হোসেন বলেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, কৃষ্ণচূড়া গাছ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই গাছ ছায়া দেয় এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে। এ ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিও সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে।  তিনি আরও বলেন, তবে আমাদের প্রকৃতি থেকে দিন দিন এই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। নতুন করে কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।    বগুড়া সদর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বলেন, এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে রঙিন করে তুলেছে। এর সৌন্দর্য সবাইকে টানছে।

বিশেষ করে ফুলের ওপর রোদ পড়লে এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়। আসা-যাওয়ার পথে এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই।  তিনি বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর কিছু ঔষধি গুণাগুণও রয়েছে। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা ও ফুল বিভিন্ন ভেষজ প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে শরীরের প্রদাহ কমানো, ক্ষত শুকানো এবং কিছু ত্বকের সমস্যায় এর নির্যাস উপকারী বলে বিবেচিত।  তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের গাছপালা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ রোপণে যার যার জায়গা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।