NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
'৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ': বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত চিত্র ও বাস্তবতা : কাজী আসমা আজমেরী আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায়
Logo
logo

কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক


Akbar Haider Kiron   প্রকাশিত:  ২৪ জুলাই, ২০২৬, ০২:২২ এএম

কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক

এবার কানাডার পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন মৌলভীবাজারের মেয়ে ডলি বেগম। কানাডার  মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন নতুন ইতিহাস। তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যিনি সে দেশের জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কানাডার টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। ডলি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত। কানাডা প্রবাসীরা বলছেন, তার এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়।   এটি কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি সম্মানজনক অনুপ্রেরণা। জানা যায়, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট আসন থেকে হ্যাটট্রিক বিজয়ের পর এবার কানাডার পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হলেন মৌলভীবাজারের ডলি। ডলির এমন ধারাবাহিক সাফল্যে উৎফুল্ল তার নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রামবাসী। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালের দিকে এই আনন্দের খবর পান বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা।  সোমবার স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে ডলি বেগম নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বদ্বিতাকারী অন্য দলের প্রার্থীরা ছিলেন, কনর্জারভেটিভ পার্টির ডাইনা ফিলিপ্রভা, এনডিপি’র ফাতিমা শাহবান, জিআরএন-এর প্রজা মালিহতরা। উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র মতে ২০১৮ সালে প্রথমবার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন।   চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। এর আগে প্রথমবার এমপিপি নির্বাচিত হওয়ার পর ডলি কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদে বিরোধীদলীয় ডেপুটি হুইপ ও স্পিকার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন কানাডায় প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যিনি সে দেশের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধারাবাহিক বিজয় অর্জন করেন। ডলি বেগম কনজারভেটিভ প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের গণবিরোধী নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোলামেলা বক্তব্য রেখে অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। তার মা বাবা ভাই ও স্বামী তাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেন।   ২০২৪ সালে তিনি তার স্বামী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। কানাডা প্রবাসী কানাডাস্থ ইউনাইটেড জালালাবাদ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এম আর আজিজ ও কানাডা প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা কানাডাস্থ কুলাউড়া সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন আহমদ কমরু, আবু সুলতান আজাদ  বলেন অন্টেরিও প্রদেশের বসবাসরত বাংলাদেশিরাসহ পুরো কানাডার প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন ডলি বেগমের বিজয়ের সুসংবাদ পাওয়ার জন্য। তারা বলেন ডলির বিনয়ী স্বভাব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দল ও কমিউনিটির প্রতি তার উদার আন্তরিকতা তাকে বার বার নির্বাচনে বিজয়ী করছে। মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রামের সন্তান ডলি বেগম। ডলি বেগম রাজা মিয়া ও জবা বেগম দম্পতির বড় সন্তান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ডলি বড়। তার ছোট ভাই মহসিন আহমদ সে দেশের একজন সফল ব্যবসায়ী।  ১৯৯৮ সালে ডলি তার বাবা-মার সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। ডলি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় প্রবাস জীবনে চলে যান। ডলি তার ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডিতে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করার জন্য আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তাতে আমি গভীরভাবে অভিভূত, সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। এই পুরো নির্বাচনী প্রচারণা জুড়ে আমি সরাসরি আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি। আপনাদের গল্প, প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা। আপনারা আমাকে একটি নতুন ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের জন্য লড়াই করার দায়িত্ব আপনারা আমার ওপর অর্পণ করেছেন। আমি ঠিক তাই করবো।