NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo
আদর্শ, কৌশল নাকি আপস?

বাংলাদেশ রাজনীতির এক সংবেদনশীল মুহূর্তে - আকবর হায়দার কিরন


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

বাংলাদেশ রাজনীতির এক সংবেদনশীল মুহূর্তে - আকবর হায়দার কিরন

 সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—মৌলবাদী শক্তির প্রত্যাশিত অগ্রযাত্রা ঘটেনি। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বস্তিতে ফেলে ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চেয়েছিল, তাদের জন্য এটি সতর্কসংকেত। এ জায়গায় আশাবাদ জন্ম নেয়।    কিন্তু রাজনীতি কখনো একরৈখিক নয়। বিজয়ের ভেতরেও প্রশ্ন থাকে, স্বস্তির মাঝেও অস্বস্তি জন্ম নেয়।  সম্প্রতি তারেক রহমান–এর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাসায় যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনেকের মনেই অস্বস্তি তৈরি করেছে। ইতিহাস-সচেতন নাগরিকদের কাছে এটি শুধুই কৌশল নয়—এটি নৈতিক প্রশ্নও।  প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়াস?  নাকি আদর্শিক সীমারেখা নরম হওয়ার ইঙ্গিত?   বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে—জোট হতে পারে, সংলাপ হতে পারে; কিন্তু নীতিগত অবস্থান অস্পষ্ট হলে আস্থার সংকট তৈরি হয়।    

 মন্ত্রিসভা: ভারসাম্য নাকি বেখাপ্পা বিন্যাস?   নতুন মন্ত্রিসভায় একগাদা প্রতিমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি প্রশাসনিক দক্ষতার প্রয়োজন, নাকি রাজনৈতিক সন্তুষ্টি বণ্টনের কৌশল? অতিরিক্ত স্তর কখনো কখনো সিদ্ধান্তগ্রহণকে জটিল করে তোলে।  আরও উদ্বেগের বিষয়—কিছু মন্ত্রীকে এমন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অভিজ্ঞতা বা রাজনৈতিক প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার চেয়ে যদি সমীকরণ বড় হয়ে দাঁড়ায়, তবে কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

প্রবীণ নেতৃত্ব: অবহেলা নাকি পরিকল্পিত দূরত্ব?  দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও আলোচিত নেতাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।  মির্জা আব্বাস,  ড. আবদুল মঈন খান,  নজরুল ইসলাম খান,  রুহুল কবির রিজভী,  গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,  আমান উল্লাহ আমান- এঁদের মতো ডাকসাইটে ও আন্দোলন-পরীক্ষিত নেতারা যদি সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক হয়ে পড়েন, তাহলে তৃণমূল কর্মীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগবে। রাজনীতি শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জায়গা তৈরি করা নয়; এটি অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করাও।   নতুন নেতৃত্বের উত্থান প্রয়োজন—কিন্তু তা যেন পুরোনো নেতৃত্বকে অস্বীকার করে না হয়। অভিজ্ঞতা ও নবীন শক্তির সমন্বয়ই টেকসই রাজনীতির ভিত্তি।  

 দক্ষতা বনাম গ্রহণযোগ্যতা  ড. খলিলুর রহমান–এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক দেখিয়েছে, শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও সমান জরুরি। একটি সরকার তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি যেমন থাকে, তেমনি থাকে নৈতিক স্বচ্ছতা। বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে।  একদিকে বাস্তববাদী কৌশল,  অন্যদিকে নীতিগত দৃঢ়তা।    এই দুইয়ের সমন্বয়ই প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা। আশাবাদ আছে—কারণ জনগণ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।  কিন্তু সতর্কতাও প্রয়োজন—কারণ ইতিহাসের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী।    বাংলাদেশের রাজনীতি যেন কৌশলের নামে আদর্শ হারিয়ে না ফেলে—এই কামনাই আজ সবচেয়ে জরুরি।