NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

‘চায়না ফ্লেভার’: বৈদেশিক কূটনীতির নতুন ভাষা এখন খাবারের টেবিলে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

‘চায়না ফ্লেভার’: বৈদেশিক কূটনীতির নতুন ভাষা এখন খাবারের টেবিলে

সম্প্রতি চীন সফরকারী বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংখ্যা নিঃসন্দেহে অনেক বেড়েছে। তাদের সফরের আলোচ্য বিষয়গুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অনেক বন্ধু তাদের খাওয়া-দাওয়ার বিষয়েও বেশ আগ্রহী। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা এসব নেতার চীন সফরের সময় ‘জিহ্বার স্বাদে অটুট থাকা’ চীনা খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করব।

গত ২৮ জানুয়ারি, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরাসরি বেইজিংয়ের সানলিথুনে অবস্থিত জনপ্রিয় একটি ইউননান রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। স্টারমার ও তাঁর সঙ্গীরা মোট ১৩টি ইউননান বিশেষত্বের ডিশ বা পদ উপভোগ করেছেন—যার মধ্যে ছিল পুদিনা দিয়ে মোড়ানো গরুর মাংস, পোরছিনি মাশরুম দিয়ে রোস্ট করা অ্যাসপারাগাস, দাই জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ আনারস ভাত, গোলাপ ফুলের পিঠা ইত্যাদি। তাঁদের মেনুটি পাহাড়-জঙ্গল থেকে ক্রান্তীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

মজার ব্যাপার হলো, ২০২৩ সালে তত্কালীন মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেনও এই রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। তখন তিনি চার প্লেট ভাজা পোরছিনি মাশরুম অর্ডার দিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। আর সম্প্রতি চীন সফরকারী এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জেনসেন হুয়াং বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর তিনিও সেই ইউননান খাবারই বেছে নিয়েছিলেন।

অতীতে বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চীনা মেনু কয়েকটি নির্দিষ্ট পদের বাইরে যেতে পারত না—যেমন: বেইজিং রোস্ট ডাক, সাংহাইয়ের স্থানীয় খাবার, ক্যান্টনিজ মর্নিং টি বা ডিমসাম ইত্যাদি। কিন্তু এখন বৈদেশিক সম্পর্কের ডাইনিং টেবিলের স্রোত ধীরে ধীরে ইউননান, কুইচৌ ও সিছুয়ানের খাবারের দিকে বয়ে চলেছে।

মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চীন সফরের সূচনা করেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার ও রিচার্ড নিক্সন, যারা বেইজিং রোস্ট ডাকের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করতেন। তাঁরা দেশে ফিরে বেইজিং রোস্ট ডাকের প্রচার করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘রোস্ট ডাক ট্রেন্ড’ তৈরি হয়। এখন পর্যন্ত রোস্ট ডাক মার্কিন উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের প্রিয় চীনা খাবারের তালিকায় অন্যতম।

নিক্সনের চীন সফরের পর, ১৯৭৪ সালে জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীন লিয়াজোঁ অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। বেইজিংয়ে কাজ করার সময় তিনি বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য চীনের সাধারণ রেস্তোরাঁয় ‘চেক-ইন’ করার প্রথা চালু করেন। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রী বারবারা বুশকে নিয়ে সাইকেলে চড়ে বেইজিংয়ের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন এবং চীনা সমাজ ও সেখানকার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করতেন।

কিন্তু এই কয়েক বছরে স্বাদেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় আটটি প্রধান রন্ধনপ্রণালীর বাইরে থাকা ইউননান খাবার এখন প্রতিবেশী প্রদেশ কুইচো ও সিচুয়ানের সঙ্গে মিলে ‘ইউননান-কুইচো-সিচুয়ান বিস্ট্রো’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এটি সারা দেশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং নীরবেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মুখে মসলাদার ও টক-ঝাল স্বাদের একটি বিশেষ পছন্দ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

কিসিঞ্জারের রোস্ট ডাক থেকে স্টারমারের মাশরুম ভোজ পর্যন্ত—অর্ধশতাব্দীর স্বাদের বিবর্তনে বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চীনা খাদ্যতালিকা কেন ক্রমশ বৈচিত্র্যময় ও আঞ্চলিক হয়ে উঠছে?
খাদ্য সমালোচক ও জাপানের বিখ্যাত চীনা খাদ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘৮০সি (হাওচি)’-এর প্রধান সম্পাদক সাতো তাকাকোর মতে, চীনের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ চীনা খাবারের সঙ্গে আরও পরিচিত হয়ে উঠছে। বর্তমানে, জাপানি শেফদের একটি বড় অংশ চীনে আসছেন রান্নার কলাকৌশল শেখার জন্য। তাঁরা শুধু ছেংদু বা হাংচৌয়ের মতো খাবারের জন্য বিখ্যাত বড় শহরেই যাচ্ছেন না, বরং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও যাচ্ছেন ছোট ছোট বিশেষ রান্না শেখার জন্য। গত কয়েক বছরে টোকিওতে উত্তর-পূর্ব চীনা খাবার, ইউননান খাবার এবং কুয়াংসি খাবারের মতো আঞ্চলিক বিশেষত্বের রেস্তোরাঁ দেখা যাচ্ছে।

‘শার্ক ফিন অ্যান্ড সিচুয়ান পেপার’ বইয়ের লেখিকা ও ব্রিটিশ ফুড রাইটার ফিউশিয়া ডানলপ বলেছেন, চীনা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিতে খাদ্যের প্রতি প্রশংসা মানুষের সম্মান পাওয়ার যোগ্য; এমনকি একে সঙ্গীত, চিত্রকলা ও কবিতার প্রতি উপলব্ধি ক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। বর্তমানে চীনের বিভিন্ন খাবার দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ভূগোল, ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিফলন। চীনা সংস্কৃতি অন্বেষণ করতে চাইলে খাদ্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ‘জানালা’ হতে পারে।

খাদ্য আস্বাদন কখনোই কেবল স্বাদের অনুভূতির স্পর্শ নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক সংলাপ। চপস্টিকসের ওঠানামার মধ্য দিয়ে বিশ্ব একটি বাস্তব, সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত চীনকে উপলব্ধি করে। বন্ধুরা, ইউননান এত কাছে; আসুন ইউননানে এসে মাশরুমের স্বাদ নিয়ে যান...! 

সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।