NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে ৫৫ বছরে ২২ প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছুপ্পু '৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ': বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত চিত্র ও বাস্তবতা : কাজী আসমা আজমেরী আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড
Logo
logo
কাজী মন্টুর সাক্ষাৎকারে সতর্কবার্তা

" জামায়াতের উত্থানের পেছনে ডক্টরিং-পারদর্শী ড. ইউনূসের ভূমিকা রয়েছে"

মানুভারিং ভাবমূর্তি, প্রভাব ও শক্তি অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২১ এএম

" জামায়াতের উত্থানের পেছনে ডক্টরিং-পারদর্শী ড. ইউনূসের ভূমিকা রয়েছে"

 "বাংলাদেশের রাজনীতিতে তথ্য-কৌশল ও প্রক্ষাপট নির্মাণে ড. ইউনূসের গভীর প্রভাব রয়েছে, যা জামায়াতের পুনরুত্থানকে সফল করেছে" – দাবি এই প্রবীণ সাংবাদিকের ।   প্রবীণ ও খ্যাতনামা বাংলাদেশী-আমেরিকান সাংবাদিক কাজী মন্টু একটি টেলিভিশন ( কিরন টিভি ) সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে তিনি মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক "ম্যানুভারিং ভাবমূর্তি, জামাতে ইসলামীর প্রভাব ও শক্তি অর্জনে দৃষ্টিগ্রাহ্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে"।  

  তাঁর মূল বক্তব্যের সারসংক্ষেপ:  জামায়াতের সাইবার অপতৎপরতা ও অশ্লীলতা: মন্টু উল্লেখ করেন, জামায়াত-শিবির ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের সংগঠিত "সাইবার ট্রল বাহিনী" বিরোধী মতাদর্শকে আক্রমণ, গুজব ছড়ানো ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি।  জামায়াতের ঐতিহাসিক কলঙ্ক ও বর্তমান অবস্থান: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা এবং যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে মন্টু বলেন, "জামাতের এই অমার্জনীয় ভয়ঙ্কর অপরাধ কি স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ ভুলে যেতে পারে  - প্রশ্ন রাখেন তিনি।  

 ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে গড়ে উঠা হাজার হাজার মাদ্রাসা জামায়াতের রাজনৈতিক বিস্তৃতি ঘটানোর ক্ষেত্র তৈরী করে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা বিগত সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগে অনুপ্রবেশ করে ছাত্র লীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নেয়, ।  

  ড. ইউনূসের "ডক্টরিং" ও গুপ্ত এজেন্ডা: কাজী মন্টু তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি তুলে ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে। তিনি বলেন, "ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি 'ডক্টরিং' বা তথ্য ও পরিস্থিতি কৌশলগতভাবে উপস্থাপনের বিশেষজ্ঞ।"

কাজী মন্টুর মতে, ড. ইউনূস জামায়াতের উত্থান ও পুনর্বাসনের পেছনে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন এবং একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি নিজেকে ভবিষ্যতের "প্রেসিডেন্সিয়াল" অবস্থানের জন্য প্রস্তুত করছেন। এই "ডক্টরিং"-এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সক্রিয়।  আন্তর্জাতিক প্রভাব ও দুতাবাসভিত্তিক সমর্থন: মন্টু অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন পোস্টসহ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনীতি সম্পর্কে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তার পেছনে সক্রিয় ছিল মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত জামায়াত-সমর্থক কিছু বাংলাদেশী স্টাফ ।  

নির্বাচন-পূর্ববর্তী কৌশলগত চাল: নির্বাচনের আগে দুদক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের "লক্ষ্যভিত্তিক" তদন্ত এবং কিছু রাজনৈতিক প্রার্থীকে চাপে রাখার কৌশল নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার মতে, এগুলো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্ত ।    জনসাধারণের সচেতনতা ও আশাবাদ: সবশেষে কাজী মন্টু আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের আপামর জনতা এই "ডক্টরিং" ও রাজনৈতিক কৌশল চিনতে পেরেছে। জামায়াতের অতীত রেকর্ড এবং বর্তমান গুপ্ত এজেন্ডা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাই দেশকে মৌলবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।  

কাজী মন্টুর এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের রাজনীতির একটি জটিল ও প্রায়শই অস্পষ্ট দিককে সাহসিকতার সাথে সামনে এনেছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা নয়, বরং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান।

 দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি কাজী মন্টুর সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত অভিমত ও দাবিসমূহের ভিত্তিতে তৈরি। যেকোনো রাজনৈতিক দাবির সত্যতা যাচাই নির্ভর করে প্রামাণিক সূত্র ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর।