আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩২ এএম

আকবর হায়দার কিরন
ঢাকায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঢালিউড এওয়ার্ড-এর পঁচিশতম বার্ষিকী অনুষ্ঠান। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র যেন এই দিনে পরিণত হয়েছে ঢালিউড তারকাদের মিলনমেলায়। বর্ণিল আলো, রেড কার্পেট, ক্যামেরার ঝলকানি আর দর্শকের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এটি কেবল একটি পুরস্কার অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের এক ঐতিহাসিক উৎসব।
এনটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত রেড কার্পেট অনুষ্ঠান দর্শকদের বাড়িতে বসেই পৌঁছে দিচ্ছে এই উৎসবের গ্ল্যামার ও আবেগ। ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা, নির্মাতা, প্রযোজক, সংগীতশিল্পী ও কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পেয়েছে এক আন্তর্জাতিক মাত্রা।
এই আয়োজনের পেছনে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে, তিনি হলেন আলমগীর খান আলম—নিউ ইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত শোটাইম মিউজিক-এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রবাসে বসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঢালিউড চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার যে নিরলস প্রয়াস, তারই ফল ঢালিউড এওয়ার্ড।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শোটাইম-এর উদ্যোগে ঢালিউড এওয়ার্ড ইতোমধ্যে ২৪ বার আয়োজন করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই অনুষ্ঠান ছিল এক টুকরো স্বদেশ, এক সন্ধ্যার জন্য হলেও ঢাকাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ।
এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত পঁচিশতম আসরটি তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি যেন প্রবাস ও স্বদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক পূর্ণতা। আলমগীর খান আলমের দূরদর্শী নেতৃত্বে ঢালিউড এওয়ার্ড কেবল পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে নতুন শিল্পীদের অনুপ্রেরণা, প্রবীণদের স্বীকৃতি এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ধারাবাহিক ইতিহাসের দলিল। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ও সমালোচক নির্বাচিত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
স্মরণ করা হচ্ছে ঢালিউডের পথচলার উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প। একই সঙ্গে এই আয়োজন প্রমাণ করছে—বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প শুধু দেশেই নয়, প্রবাসেও সমানভাবে লালিত ও উদযাপিত। ঢালিউড এওয়ার্ডের পঁচিশতম বার্ষিকী তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর সাংস্কৃতিক যাত্রা, যেখানে নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকা—দুটি শহর এক সুতোয় গাঁথা। এই ঐতিহাসিক আয়োজন ঢালিউডকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেবে এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
ছবিগুলো তুলেছেন নিহার সিদ্দিকী