সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): ‘এসো মিলি প্রাণের টানে’ শ্লোগানে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র- ছাত্রীদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হল গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার। নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের অভিজাত ব্যাংকুয়েট গুলশান ট্যারেস পার্টি হলে আয়োজিত জমজমাট এই নৈশভোজের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো ঢাবি’র প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতিচারণ, অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আরো ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক এলামনাই ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির ফলে নৈশভোজটি তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। খবর ইউএনএ’র।
ব্যতিক্রমী নৈশভোজ অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি এম,এস আলম ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইউসুফ আলী। এরপর উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক এ. কে আজাদ তালুকদার। পরবর্তীতে এসোসিয়েশনের নিজস্ব শিল্পীরা দলীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ দেশের সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রহুল আমিন সরকার। অনুষ্ঠানের মুল পর্ব ঢাবি’র প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতিচারণে অংশ নেন দেশের প্রাক্তন জাতীয় ক্রীড়াবীদ ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সাবেক সিইও সাঈদ-উর বর, নাসির আলী খান পল, এডভোকেট মজিবর রহমান, গোলাম মওলা মানিক, ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, মোর্শেদ আলম, আব্দুল আওয়াল সিদ্দিকী,
আজিজুল হক মুন্না, সাংবাদিক মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ড. আলমাছুর রহমান, সাইদুল বাকিন, শাহেরা খাতুন, মাসুদুল ইসলাম, সানজিদা খবির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন আর ৭১’-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা গর্বিত, দেশ, জাতি গর্বিত। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি ঢাবি এলামনাই এসোসিয়েশনকে আরো শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সকল এলামানাইদের ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তারা প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও কর্মকর্তারা আগামী দিনে ব্যাপক আয়োজনে কনভেনশন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত এবং সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএস সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি এট ল মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি সাবিনা শারমিন ও সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাশেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আরা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক তামান্না শবনম পাপড়ি এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান। অতিথি বক্তারা ঢাবি এলামনাই এসোসিয়েশনের কর্মকান্ডের প্রশংসা কওে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের গর্ব। বক্তারা দলমতের উর্দ্বে সবার আগে দেশকে ভালোবাসার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা শামসুন নাহার নূপুর চৌধুরীর সঞ্চালনয় আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের গান পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্য বর্গের ছেলে-মেয়েরা ও নতুন প্রজন্মের শিশু শিল্পীরা।
এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন ফাতেমা খান, চিত্রা রোজারিও, রওশন আরা কাজল, সানজিদা খবির, সিফাত আলম, সুশীল সিনহা, কাজী হক, মোহাম্মাদ শানু, পারিজাত দাশ, লিয়ানা মানহা, এরিনা মানহা, রোদেলা হক, মৃদুলা হক ও শৌভিত চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন গোলাম মোস্তফা, আজিজুল হক মুন্না, দেওয়ান প্রীতি ও গোলাম ফারুক খান। অতিথি শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা ও প্রবাসের অত্যন্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কৃষ্ণা তিথি। শিল্পীদের পরিবশনা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা সকলে দৃষ্টি কাড়ে। নৈশভোজের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আর অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সংগঠনের সভাপতি এম এস আলম সকল এলামনাই সহ সংগঠনের সকল কর্মকর্তা এবং অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।