NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতেই কপ-৩০ এর ঐক্যমত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতেই কপ-৩০ এর ঐক্যমত

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে, কপ-৩০ ব্রাজিলে আয়োজিত হয়। সম্মেলনে অর্জিত ধারাবাহিক ফলাফল আবারও প্রমাণ করে যে, ‘প্যারিস চুক্তি’ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মধ্যে একটি ঐকমত্য এবং বিশ্বব্যাপী সবুজ রূপান্তর অপরিবর্তনীয়।

চলতি বছর হলো ‘প্যারিস চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হবার দশম বার্ষিকী। কপ-৩০-এ ১৩ দিনের আলোচনার পর সদস্যরা অবশেষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এতে ‘বৈশ্বিক মোবিলাইজেশন: জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংহতি ও সহযোগিতা’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল গৃহীত হয়। দলিলপত্রটিতে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজন, জলবায়ু অর্থায়ন, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। 

দলিলপত্রটিতে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোর উচিত ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অভিযোজন তহবিল ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ করা। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টার জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি প্রদানের জন্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে তহবিল তিনগুণ করার আহ্বান জানানো হয়। এই লক্ষ্যে, সম্মেলনে দুই বছর মেয়াদী জলবায়ু অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার সহ-সভাপতি হবেন দু’জন—একজন উন্নত দেশের ও অন্যজন উন্নয়নশীল দেশের।

এ ছাড়াও, এবারের সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ফলাফল নথিতে বাণিজ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের ওপর মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে, কোনো দেশই একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ করে অযৌক্তিক বাণিজ্যিক বৈষম্য বা ছদ্মবেশী বাণিজ্যিক বাধা তৈরি করতে পারবে না।

জলবায়ু-হুমকির সম্মুখীন ৩৯টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র জোট মনে করে, চূড়ান্ত অর্জন নিখুঁত না-হলেও, এটি প্রয়োজনীয় অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনকে সমর্থন করার জন্য অর্থায়ন ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধি ইভান্স এনজেওয়া ফলাফল নথিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেনি। ১৯৯৫ সালে প্রথম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের পর এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সরকার সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকল।

চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপমন্ত্রী লি কাও বলেন, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং একতরফাবাদ ও সংরক্ষণবাদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এবারের সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কষ্টার্জিত রাজনৈতিক দলিল গৃহীত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সকল দলের ঐক্যবদ্ধ ও সহযোগিতার দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়।

কনভেনশনের সচিবালয়ের নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিল সমাপনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বলেন, এবারের সম্মেলন সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিশ্বব্যাপী আকাঙ্ক্ষা দেখায়। কম কার্বন নির্গমন ও জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক সমাজের দিকে বিশ্বব্যাপী উত্তরণ অপরিবর্তনীয় ও ভবিষ্যতের জন্য একটি অনিবার্য প্রবণতা।
লি কাও আরও বলেন, চীন সম্মেলনে বহুপাক্ষিকতাবাদকে সমর্থন করেছে এবং বিভিন্ন সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। সাধারণ কিন্তু পৃথক দায়িত্বের নীতিকে সমুন্নত রাখা, প্যারিস চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বজায় রাখা,  প্রথমবারের মতো বহুপাক্ষিক জলবায়ু প্রক্রিয়ায় একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও, চীন অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অভিযোজন তহবিল বৃদ্ধি করতে তাগিদ দিয়েছে। এটি সম্মেলনের ইতিবাচক অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ত্বরান্বিতকরণে চীন সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে কাজ করে এবং সবুজ উন্নয়নের ফল ভাগ করে নেয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চীন ৪৩টি উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে ৫৫টি জলবায়ু পরিবর্তনসংশ্লিষ্ট দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর করেছে। চীন ১২০টিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশের ১০ হাজারেরও বেশি লোককে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। 

কনভেনশনে বলা হয়, চীনা ধারণা মানুষ ও প্রকৃতির সম্প্রীতিময় সহাবস্থানের ওপর জোর দেয়। চীনের ‘দ্বৈত কার্বন’ লক্ষ্যে এই চেতনা দেখা যায় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এর নেতৃত্ব এই দৃষ্টিভঙ্গির অনুশীলনকে প্রতিফলিত করে। 

সূত্র:ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।