আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
.jpeg)
মিজানুর রহমান আফরোজ
বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সংবাদ বিশ্লেষক গিয়াস কামাল চৌধুরীর ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ । তিনি দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় সাংবাদিকতা করেছেন। তবে ভয়েস অব আমেরিকার ঢাকা সংবাদদাতা হিসেবে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে গ্রাম-গঞ্জের মানুষজনের কাছেও অতি পরিচিত ছিলেন।
বিভিন্ন সময়ে একাধিক মেয়াদে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে),বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিক সমাজের নেতা হিসেবে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন।
গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একনিষ্ঠ অনুসারী। সাংবাদিকতা এবং সংবাদপত্র জগতের বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল ঈর্ষণীয়। ১৯৩৯ সালের ২১ জুলাই ফেনীর শর্শদি চৌধুরী বাড়িতে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একজন নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দেশ ও জাতির জন্য ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধে তিনি সারা জীবন কাজ করে গেছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী।
১৯৭৯ সালের ১৭ নভেম্বর ভাসানী স্মৃতি পরিষদ, কিশোরগঞ্জের উদ্যোগে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি, কিশোরগঞ্জে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গিয়াস কামাল চৌধুরীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সে সভায় উপস্থিতি থাকতে পারেননি।
তবে সেদিন সকালে তাঁর পুরনো পল্টনের বাসায় আমাকে সামনে রেখে তিনি সে সভায় পাঠ করার জন্য এক পৃষ্ঠার একটি অসাধারণ বক্তৃতা হাতে লিখে নিজে খামে ভরে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সভায় আমি সেই লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেছিলাম। এটি আজও স্মৃতি স্মারক হিসেবে তা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে । ২০১১ সালে তিনি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালে আজকের দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আল্লাহ পাকের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। মহান আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।