খবর প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

হাসিনা আকতার নিগার
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে একটা নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় জনগন আন্দোলনকারী ছাত্রদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল। একই সাথে নোবেল বিজয়ী ড: ইউনুসের সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিল নিজেদের সকল কিছু দিয়ে। যদিও তিনি বলেছিলেন, তার নিয়োগ কর্তা হলো ছাত্ররা।যাই হোক ভালো মন্দ মিলিয়ে মানুষ ভেবেছিল, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক সরকারের মত তালবাহানা করবে না।জনগণের উন্নয়নকে প্রধান্য দিয়ে সংস্কার সাধন করবে দেশ ও জনগনের। কিন্তু বিগত এক বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মসনদ আহরণের তাগিদটা এতই বেশি যে, তাদের মুখে একটাই বুলি, ' নির্বাচন ছাড়া কিছু হবে না।' এখানেই শেষ নয়। জুলাইয়ের আন্দোলনের অন্তরালে তারা আওয়ামী সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবী করে। আন্দোলনের ক্রেডিট নিতে দলগুলোর কথা শুনে মনে হয়, তারা সব সাজিয়ে রেখেছিল ছাত্রদের আন্দোলন নিমিত্তমাত্র।
অথচ সাধারণ জনগনকে বিগত ১৬ বছরে রাস্তায় নামাতে পারেননি বিএনপি। এক্ষেত্রে আওয়ামী সরকারের মামলা হামলার দায়ী যেমন সত্য তেমনিভাবেই দলের বাইরে সাধারণ জনগনকে আন্দোলনে সামিল করতে পারেনি আওয়ামী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে। অথচ সে জনগনই বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের ডাকে বুলেটের সামনে নিজের সন্তানকে সাথে নিয়ে দাঁড়িয়েছে।কারন হাজারো মায়ের বুক খালি করেছে শেখ হাসিনা নিজের আমিত্ববোধের অহমিকাকে বজায় রাখতে গিয়ে। বাংগালী জাতি কোনদিন মাথা নত করেনি কোন স্বৈরশাসকের কাছে। যার প্রমান হল ১৯৪৭,১৯৫২ , ১৯৬৯ ও ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলন । সে ইতিহাসে নতুন করে সংযোজিত হয়েছে২০২৪।
জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে অন্তবর্তী সরকার হিসাবে ড: মোহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা আসার পর দেশের মূলধারা রাজনৈতিক দল বিএনপি মুক্তভাবে জনগণের সামনে আসে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পর। বেগম খালেদা জিয়া সহ অনেক নেতাদের মামলার অবসান ঘটে। বলতে গেলে ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়ে রাজনীতির মাঠে। সারাদেশের বিএনপি নেতা কর্মী ও সর্মথকরা মিছিল মিটিংয়ে সামিল হয় নির্ভয়ে। তবে এর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলাম নিজেদের আপন পরিচয়ে বেশ সাবলীলভাবেই রাজনীতির মাঠে আছে।জামায়াতের এ আত্মপ্রকাশে প্রমান হয় আইন দিয়ে বা অগনতান্ত্রিকভাবে কোন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না।রাজনৈতিক বিশ্বাস, আর্দশ মানুষ লালন করে তার চিন্তা ও চেতনায়। উল্টোভাবে দেখলে জামায়াতে ইসলামের বিগতদিন গুলোর মত সময় কাটাচ্ছে আওয়ামী লীগ।বিধির বিধানকে অস্বীকার করার শক্তি মানুষের নেই। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকবে না এটা পরিস্কার। আর এক্ষেত্রে ধরেই নেয়া হয়েছে ইউনুস সরকার তার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বিএনপির কাছে। কারন ভোটের অংকে বিএনপি সারাদেশে বিজয় হবে এটা দলের কথাবার্তা অনেকটাই প্রকাশ পায়। তাহলে এখন প্রশ্ন একটাই এবারের নির্বাচন কি হবে কেবল সংসদের বিরোধী দল নির্ধারনের জন্য?
আওয়ামী লীগের একক নির্বাচনের কারনে জনগন ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বহু আগেই । বলতে গেলে নতুন প্রজন্ম ; যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ তারা ভোট দিয়ে তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পায়নি। বিগত সময়ে বাংলাদেশের ভোটের অংকে বলা হত আওয়ামী লীগের আসন বেশি ভোট কম। আর বিএনপির ভোট বেশি আসন কম। এ হিসাবের কারনে ৯০ পরবর্তী সময়ে বড় দুই দলই নিজেদের সুবিধামত জোট গঠন করে নির্বাচন করেছিল। কিন্তু আওয়ামী সরকারের আমি ডামি নির্বাচনে জোট বা গতানুগতিক নির্বাচনে ধারা ছিল না। রাতের ভোট দেখে জনগন ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ হারিয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনুস সরকারের ঘোষিত সময় অর্থাৎ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়ে ; সে নির্বাচনে বিজয়ী হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড়দল বিএনপি এটা অনেকটাই নির্ধারিত বলে ধারণা করা হয়।এক্ষেত্রে যে প্রশ্নটা বিএনপির ক্ষেত্রে পীড়াদায়ক হবে তা হলো, সংসদে যদি একটা শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তা হলে বিএনপি সরকার পরিচালনায় বেকায়দা পড়বে। এমনকি সে সরকার আওয়ামী লীগের মত একক ক্ষমতাধর হয়ে উঠার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমান সময়ে সংস্কারের নামে সংসদের উচ্চকক্ষ,নিম্নকক্ষ বা পিআর নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তা কিন্তু দেশের ৫০ ভাগ মানুষ বুঝে না বা বুঝতে চায় না।তাদের কথা হলো, সাধারণ নিয়মে একটা ভোট হবে। তারা তাদের পছন্দের দল বা প্রার্থীকে ভোট দিবে।
সাধারণ মানুষের ভোটের হিসাবে গড়মিলের জায়গা হলো, আওয়ামী সমর্থক ও তরুণ প্রজন্মের সীল কোন ঘরানার দল পাবে। সাদাচোখে যদি হিসাব করা হয় জুলাই আন্দোলনকে সামনে রেখে,সেখানে যে বিষয়টা পরিস্কার তা হলো, ছাত্রদের আন্দোলনে সাধারণ ছাত্ররা সহ ছাত্রদল,শিবির,ছাত্র ইউনিয়ন ও অন্যান্য সংগঠন একীভূত হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন করেছিল। পরবর্তীতে ছাত্রদল, শিবির সহ বাম সংগঠনগুলো ফিরে গেছে নিজেদের মূল দলে। আবার এ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির জন্ম হয়।তবে সাধারণ ছাত্ররা সকলেই যে এনসিপিকে সর্মথন করে তা কিন্তু নয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই নীরব জনগণের ভোট বড় ফ্যাক্টর। আর এবার সে সাথে যোগ হয়েছে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের তরুন প্রজন্মের ভোট। এ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন দেখে রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হলে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে জুলাইয়ের আন্দোলনে। এরা নতুন ধারায় দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বলে নির্বাচনের আগে সংস্কার চায় সকল ক্ষেত্রে। কিন্তু পুরনো দলগুলো এখন অবধি নির্বাচন করে সরকার গঠন করতে অস্থির হয়ে আছে।কারন তাদের হিসাব হলো আওয়ামী লীগের ভোট মাইনাস হলেও বিএনপি সরকার গঠন করবেন তা নিশ্চিত। নীরব ভোটারদের কাছে পরিস্কার চিত্র রয়েছে, ৭১ পরবর্তী আওয়ামী সরকার, জিয়াউর রহমান,এরশাদের সামরিক শাসন। এরপর ৯০ এর আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে গনতান্ত্রিক সরকারের নামে বিএনপি, আওয়ামী লীগের শাসন। সে সময়ের নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে ১/১১ এ জাতি দেখেছে দলগুলোর দূর্নীতি কতটা অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তারপর দূর্নীতির জিরো টলারেন্স নীতির নামে শেখ হাসিনার সরকারের দূর্নীতি কোন পর্যায়ে ছিল তা জনগন বাকরুদ্ধ হয়ে দেখেছে। কারন ১৬ বছরের শাসনে শেখ হাসিনার 'আমি আর আমরা'এ বাক্যটি মানুষকে শিকল পড়িয়েছে নানাভাবে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে নিজের স্বার্থে পুঁজি করার কারণে নতুন প্রজন্ম মনে করে ৭১ মানে আওয়ামী লীগ। সব কিছু মিলিয়ে এ নীরব ভোটারদের মধ্যে দোদুল্যতা কাজ করছে।এর সাথে যে বিষয়টা যোগ হয়েছে, তা হলো জুলাই আন্দোলনের তরুণরা অর্থের হাতছানি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেনি।তাদের নামে কম বেশি দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আর তাদের ৭১ বিরোধী মনোভাব,নতুন সংবিধানের দাবী দেশকে অস্থির করে তুলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা দেশে যদি ১৬ বছর এক দলের শাসন ব্যবস্থা থাকে সেখানে সে সরকারের বাইরে গিয়ে নিজের পেট চালানোর ক্ষমতা দেশের কজন মানুষের আছে - তা ভেবে দেখা উচিত। রাজনৈতিক আর্দশ সম্পূর্ণভাবে ভাবে প্রতিটি মানুষের একান্ত নিজস্ব ভাবনা। আওয়ামী শাসন আমলে জামায়াতেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, জামায়াতে ইসলাম বলে আসলে কিছু নাই।কিছু ৫ আগষ্টের পর জামায়াতে ইসলাম মাঠে এসে প্রমান করেছে আওয়ামী লীগ দিবাস্বপ্নের চোরাবালিতে ডুবে ছিল। ঠিক একই ভাবে বিএনপি, জামায়েত ইসলাম, এনসিপিকে ভাবতে হবে, আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে। আর যারা মনে করে তারুন্যের ভোট পুরনো রাজনৈতিক দল পাবে না, সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পারিবারিক চিন্তা ভাবনা ভোটকে অনেকটা প্রভাবিত করে সেটা কিন্তু লক্ষ্যনীয়। সামগ্রিক চিত্রটা এখনো এতটা পরিস্কার নয়। কারণ দলের নমিনেশন এবার বিএনপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে দলের অসংখ্য নেতা কর্মী মামলা হামলার শিকার হয়েছে। তাদের ত্যাগের হিসাব এখন চুকিয়ে দিতে হবে দলকে। দলের বাইরের বিত্তশালীদের নমিনেশন দিলে অংকটা সহজ হবে না। অন্যদিকে তর্কের খাতিরেই ধরে নেয়া হয় যে, ৪০% ভোট কাষ্টিং হলে আসন বেশি পাবে বিএনপি। এক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বিরোধী দল না থাকলে সংসদ হবে এক দলীয় শাসনের মত।অতএব শক্তিশালী রাখতে হলে আসনের ক্ষেত্রে একটা সমঝোতায় আসতে হবে বিএনপিকে। সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় আপাতদৃষ্টিতে, এবার ভোট হবে বিরোধী দল নির্বাচনের ভোট। যে বিষয়টা কোন দল ভাবছে না তা হল ভোটার তালিকার জটিলতা। বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয় পত্রকে ভোটার কার্ড হিসাবে গন্য করা হয়। এক্ষেত্রে সমস্যাটা হলো ভোটারের ঠিকানা। বিশেষ করে শহরের ভোটারদের অনেকের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নিজের গ্রামের আবার যারা ভাড়া বাসায় থাকেন তারা জাতীয় পরিচয় পত্র করার সময় যে ঠিকানায় ছিলেন তা আর পরিবর্তন করে নাই।কারণ জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বেশ হয়রানির কাজ। এ দু ধরনের মানুষদের ভোট খুবই কম কাষ্টিং হবে। যদি জাল ভোট না হয়।বিগত সময়ে ভোটের চর্চা ছিল না বলে মানুষ এসব নিয়ে ভাবে নাই। দ্বিতীয় সমস্যা হলো, বলা হচ্ছে প্রবাসীদের ভোটের সুযোগ দেয়া হবে। ভোটের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তার বর্তমান ঠিকানায় ভোট দেয়। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতয় ঘটবে যদি তারা স্থায়ী ঠিকানায় ভোট দেয়।তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যারা বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছে তাদের যদি দ্বৈত নাগরিকত্ব না থাকে সে কি করে বাংলাদেশে ভোট দিবে। এমন অনেক নাগরিক আছে যাদের পাসপোর্ট বহু বছর আগেই বাতিল হয়েছে।এমআরপি পাসপোর্ট নাই অনেকের। হাতের লেখা বাতিল পাসপোর্ট ধারীদের ক্ষেত্রে ভোটের তালিকা করা সময় সাপেক্ষ বিষয়। অবৈধভাবে যারা বিদেশে আছে তাদের ক্ষেত্রে ভোট দেয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে। প্রবাসীদের ভোটের আইন কি সেটা পরিস্কার করতে হবে।বিগত কোন সরকার প্রবাসীদের ভোট নিয়ে কোন আইন করে নাই।ইউনুস সরকার চাইলেই একটা নতুন নিয়ম চালু করতে পারে না।প্রবাসীদের বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। দেশে বা বিদেশে জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন ভোটের পরিচয় পত্র হতে পারে না।রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট সংগ্রহ করার অনেক উদাহরণ রয়েছে। তাই বলে তারা কি ভোটের অধিকার পাবে? তাই সব দলকে আবেগ আর ক্ষমতাসীন হবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ভুল করলে সামনে বিপদ বাড়বে। ভোটের সমীকরণ আগামীর নির্বাচনে মিলবে না বলেই বিএনপি এককভাবে ভোটের মাঠে থাকতে চায়।এবং তারা জানে ৭১ আর মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত সংবিধান এখনো সাধারণ মানুষের কাছে অর্থবহ চেতনার শক্তি। এর সাথে আপোষ চলে না বলেই শেখ হাসিনার একটি বাক্য ' রাজাকারের নাতিপুতি'কে প্রতিবাদ জানাতেই রাস্তায় নেমেছিল দেশের মানুষ।ঠিক একই ভাবে এখন যারা ৭১ মানে শেখ হাসিনা বুঝে তারা এর জবাব পাবে ভোটের সীলে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধ না হলে আজ স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ' আমরা বাংগালী, বাংলাদেশ আমার দেশ।' এটা বলতে পারত না। পাকিস্তানিদের পক্ষের শক্তি যখন বলে,তারা ভুল করেনি সেটা এ জাতির জন্য বড় বেদনাদায়ক। আর এ শক্তি তরুণদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থকে হাসিল করতে চাইছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন প্রজন্ম ৭১ কে বুঝে পথ চলবে এটাই হোক আগামীর নির্বাচনের প্রত্যাশা।
হাসিনা আকতার নিগার লেখক - কলামিস্ট