আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতিমূলক তৎপরতায় মনোযোগী। অন্যদিকে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পালিয়ে যাওয়া নেতানেত্রী এবং ১৪-দলভুক্ত তাদের অনুগামীরা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হবে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মরত দলীয় ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ওপর। তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল বারবার অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এইসব কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টারা এ বিষয়ে বরাবরই নীরব থেকেছেন।
গত বছরের ৫ই আগস্ট যারা পালিয়ে গেছে এবং কয়েকজন বরখাস্ত হওয়া ছাড়া বাকিরা এখনও বহাল তবিয়তে সচিবালয়ের সব পদ দখল করে আছে; আর তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে উপদেষ্টারা। এই লুকিয়ে থাকা দুষ্টচক্র এখন মরিয়া হয়ে মরণকামড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগারদের সরব উপস্থিতি। প্রধান উপদেষ্টা বারবার ঘোষণা দিচ্ছেন, তিনি নাকি দেশকে “সর্বোত্তম” একটি নির্বাচন উপহার দেবেন। কিন্তু তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না—হাসিনার আমলাদের ছায়াতলে থেকে তিনি কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেন না।
সবচেয়ে বিস্ময় ও হতাশা বোধ করি যখন দেখি—রাজনৈতিক অগ্রভাগের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে উপেক্ষা করে তারা আক্রমণাত্মকভাবে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে মেতে উঠেছে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীগুলোর দৃশ্যমান ষড়যন্ত্র ক্ষমতার মোহে অন্ধ ইসলামপন্থী দলগুলো এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির অর্বাচীন নেতা-কর্মীদের বয়ানে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তাদের মুখে এখন ‘জুলাইয়ের চেতনা’ পুরোপুরি নিজেদের আখের গোছানোর হাতিয়ার মাত্র। তারা ভুলে যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের উত্থান মানেই তাদের জন্য মহাবিপদ।