NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

জুলাইয়ের গন অভ্যুত্থানের স্বপ্ন কি কেবলই স্বপ্ন!


খবর   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

জুলাইয়ের গন অভ্যুত্থানের স্বপ্ন কি কেবলই স্বপ্ন!

 হাসিনা আকতার নিগার

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন লাল সবুজ পতাকাটি পেয়েছে এটা অবধারিত সত্য। তার সূত্র ধরে বাংলার জনগণের চাওয়া ছিল স্বাধীন দেশে নিজেদের মত করে দেশটাকে গড়ার। যেখানে থাকবেন না পরাধীনতার শিকল। থাকবে মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়বার মত পরিবেশ। মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশ থাকবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।  কিন্তু  দু:খিনী মায়ের সন্তানরা  স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও লড়াই করছে নিজেদের মৌলিক অধিকার গুলোর জন্য। নানা সময়ে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আর সে ধারাবাহিকতায় ২৪শের জুলাই সব আন্দোলনকে  ছাড়িয়ে গেছে।  নিজের দেশের মানুষকে গুলিতে নিহত করেছে১৯৭১ সালের মহানায়কের কন্যা শেখ হাসিনা। এটা সত্যি স্তব্ধ করে দিয়েছে দেশকে।একজন মা কি করে মায়ের বুক খালি করে তা ভাবা অসম্ভব। ক্ষমতার স্বাদ এতটাই মানুষকে অন্ধ করে তার জলন্ত উদাহরণ হয়ে গেল শেখ হাসিনা।  বাংলাদেশের  স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের  লড়াইগুলো  কোন ভিন্ন দেশের সাথে হয়নি। সকল লড়াই  হয়েছ দেশের শাসক গোষ্ঠীদের সাথে। এ লড়াইয়ের সূত্রপাত্র হয় নানা সময়ে নানা ভাবে। তবে ১৯৭১ সালকে নিয়ে যে বিভেদ সৃষ্টি হয় তা অত্যন্ত বিপদজনক। দেশের মধ্যে নিজেদের অজান্তে দুটি পক্ষ জন্ম নেয়।একদল  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি  অন্যটি হলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। এখানেই শেষ নয়। সময়ের পরিক্রমায়  দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা নেই শুরু করে বিবাদ।আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এককভাবে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তির হিসাব মনে করতে থাকে। অন্যদিকে বিএনপি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে। এর দ্বারা তারা মনে করে মুক্তিযুদ্ধ সফল হত না জিয়ার ঘোষণা ছাড়া। কিন্তু চিরায়ত সত্য হল, শেখ মুজিবর রহমানের ৭ ই মার্চের ঘোষণায় দেশ প্রস্তুত হচ্ছিল যুদ্ধের জন্য। আর ২৫ শে মার্চের কালরাত্রির ঘটনায় দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে।

বাংগালী সেনা সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল। কিন্তু  সে পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা বাংগালী সেনাদের মনোবলকে আরো বাড়িয়ে দেয়। জিয়াউর রহমানের  ' একটি জাতির জন্ম' লেখায় এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করা আছে। সব কিছুকে ছাড়িয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি  নানা ভাবে ইতিহাসকে নিজেদের মত করে লিপিবদ্ধ করেছে তাদের শাসন আমলে।আসলে এককভাবে কেউই মুক্তিযুদ্ধের দাবিদার হতে পারে না।কারন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হলো জনযুদ্ধ।একমাত্র রাজাকার আলবদরও বাহিনী ছাড়া প্রতিটি পরিবার কোন না কোনভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।   বাংগালী বড় দূর্ভাগা জাতি তাই স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অতি দাম্ভিকতার কারনে তরুন প্রজন্মের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ আর বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কোনদিন কোনকালেই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ  শেখ পরিবার বা আওয়ামী লীগের একক সম্পত্তি ছিল না।বিগত ১৬ বছরে যা ভুল হয়েছে তার দায় কেবলমাত্র শেখ হাসিনা  আর তার দূর্নীতিবাজ দোসরদের। সেখানে মুজিববাদ বলে কিছুই ছিল না। বর্তমান প্রজন্ম যদি শেখ মুজিবের শেষ ভাষনটি বিশ্লেষণ করে তাহলে বুঝতে পারত ১৯৭২ পরবর্তী সময় নিয়ে কতটা হতাশাগ্রস্থ ছিলেন তিনি। তার কন্যা পিতাকে অনুসরণ করে নাই বলে  আজ দেশ থেকে বিতাড়িত।এ নির্মম সত্যকে যদি শিক্ষনীয় হিসাবে গ্রহন করে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো তাহলে হয়ত নতুন একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন কেবল স্বপ্ন থাকবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা বিতাড়িত হলেও এ দেশে এখনো বহাল তবিয়তে আছে দূর্নীতি,চাদাঁ বাজি, দখলদারি সহ নানা অপকর্ম।  এসব দেখে মনে হয় ক্ষমতার পালাবদল হয় কিন্তু সাধারণ জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।  ২৪ শের জুলাইতে শেখ হাসিনার একটি তাচ্ছিল্যকর শব্দ ' রাজাকারের নাতিপুতি' শুনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের জনগন ও রাস্তায় নেমে আসে প্রতিবাদ জানাতে।সন্তানকে রাস্তায় নামিয়ে দিতে কুন্ঠা বোধ করে নাই মৃত্যু হতে পারে জেনেও।সেদিন গুলোতে আওয়ামী সরকার প্রধানের হিংস্ররূপ দেখে বিস্মিত হয়েছে সারাদেশ।

একজন মায়ের সন্তানের লাশ হাজারো মাকে কাঁদিয়েছে। স্বাধীন দেশের এমন গুলির শব্দ মেনে নেয়ার মত কোন যুক্তি ছিল না। হাজারো মায়ের বুক খালি করে দিয়েছে আরেক মা। এমন বাংলাদেশ কারো প্রত্যাশায় ছিল না সে সময়।তাই মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে সন্তান হারা মায়েদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।  এটা কোন রাজনৈতিক দল বা দলের প্রধান হিসাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিবেকবান মানুষ হয়ে ভাবা উচিত।মানুষের জীবন ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়- এ বাস্তবতাকে মানতে পারলে মানুষ কখনো হিংস্র মনোভাব লালন করতে পারে না।  শেখ হাসিনার যবনিকাপাতের এক বছর পার হল। সন্তান হারা মায়েদের শোক কোনদিন কেউ ভুলিয়ে দিতে পারবে না।তবে তারা চায় তাদের সন্তানদের স্বপ্নটা সত্যি হোক। কিন্তু ক্রমশ সে স্বপ্ন যেন দূর আকাশের তারা হয়ে উঠেছে। কারন অন্তবর্তী সরকার প্রধান ডক্টর ইউনুস আর উপদেষ্টা পরিষদের টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে সুবিধাবাদীরা।কখনো এ সরকার পরিস্কার কিছু বলতে পারে না। কোটা বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছিল নতুন প্রজন্ম দেশকে নিয়ে ভাবে।তারা কেবল মোবাইল আর ইন্টারনেট ব্যস্ত থাকে না। তাই তরুণদের দেখা স্বপ্নের বাংলাদেশ সবার স্বপ্ন হয়ে উঠলেও আজ সে স্বপ্ন ক্রমশ চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে।   বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা ও নিজেদেরকে এমপি বা মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়।আর এ কাজটার বীজ বপন করেছে ছাত্রদেরকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করার মাধ্যমে। ইতিহাসের ব্যতয় ঘটিয়েছে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতারা। প্রতিটি আন্দোলনের সূচনা ঘটায় ছাত্ররাই। বিজয়ের পর তারা ফিরে যায় তাদের পড়ালেখায়।এবার ও তাই হবার কথা।

কোটা আন্দোলন শেখ হাসিনার অদূরদর্শিতার জন্য সরকার হটানোর আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল একথা যেমন সত্য। তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলন সফল হবার পর ছাত্রদের  পড়ালেখা আর ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে সরকার ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর উপর প্রেশার গ্রুপ হিসাবে কাজ করাটা হত যথাযথ। তা না করে তারা যখন সরকার ও বিভিন্ন স্থানে পদবী নিয়ে আসীন হয়, তখন তারা তাদের আন্দোলনের  শপথ ভুলে গিয়ে ভুল পথে  চলতে শুরু করে। সোজা কথায় বলা যায়, ক্ষমতা আর অর্থের মোহ থেকে তারা আলাদা হতে পারছে না। গতানুগতিক রাজনীতির ধারায় দেশে জন্ম নিয়েছে নতুন আরেকটি দল এনসিপি- জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাদের ভাষ্যমতে বিগত ৫৩ বছরে বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকারের নাগরিক অধিকার  ও সুবিধা পায়নি। এ ৫৩ বছরের ইতিহাসে কেবলমাত্র মাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না।এদেশক শাসন করেছে সামরিক বাহিনী,বিএনপি,এরশাদ। ৯০ এর গন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ার অংগীকার করেছিল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সে অংগীকার কোন দলই পালন করে নাই।বরং যে যার মত করে নিজেদের দূর্নীতির মধ্যে দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছে।

যার ফলে ১/১১ এ লগি বৈঠার সংঘাতের সৃষ্টি  হয়।সে সময় বিএনপি বিনাশের পথে চলে গিয়েছিল। জনগন মনে করেছিল ১/১১ থেকে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিবে। কিন্তু তা হয়নি বরং বিএনপির চেয়েও আর ভয়ংকর  পথে চলতে থাকে আওয়ামী লীগ।  মুক্তিযুদ্ধকে আজ তাদের জন্য ক্ষত বিক্ষত হতে হচ্ছে। তবে  মুক্তিযুদ্ধ মানে আওয়ামী লীগ নয়।একথাটা বর্তমান প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে। আজ যে মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা কথা বলছে তা কিন্তু অনেক মানুষের  রক্ত আর মা বোনের সম্ভ্রম হারানো বিনিময়ে পাওয়া। সে সাথে এটাও মনে রাখা উচিত ৭১ বিরোধী রাজনৈতিক দল হচ্ছে গোখরা সাপের মত। সুযোগ বুঝে তারা ছোবল দিবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য।তরুণদের আওয়ামী ৭১ বিরোধী আবেগ তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাই প্রগতিশীল তরুণদের উচিত আওয়ামী দৃষ্টির বাইরে গিয়ে১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হবে।  দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটা বিষয় সুস্পষ্ট, ইউনুস সরকার এখন নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিতে চায়। প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী হলেই যে ভালো শাসিক হবে তা কিন্তু নয়। বরং এ সরকারে বসেই তিনি নিজের বেশ কিছু স্বার্থ হাসিল করে নিয়েছে অতি সহজে।

শেখ হাসিনার সাথে তার ব্যক্তিগত সংঘাত রয়েছে। আর সেখানে ইউনুসের  প্রধান উপদেষ্টা  হয়ে বাংলাদেশ শাসন করা বিশাল বিজয়।দু:খজনক হল এটাই হাজারো শহীদের রক্তের দাগএখন আর সরকারকে আবেগ তাড়িত করে না।  জুলাই আন্দোলনের আবেগ যে হারিয়ে গেছে তার প্রমান হল জুলাই ঘোষণা পত্র। এখন পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের  রাষ্ট্রপতি  বহাল তবিয়ত। এ রাস্ট্রপতি কে অপসারণের কোন উদ্যোগ নেয়নি সরকার। ইউনুস সাহেব  তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই ক্ষমতা বসেছেন।কিন্তু এখন তিনি তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার প্রথম বিনাশ ঘটিয়েছে তাদের দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে। বছর না ঘুরতেই জুলাই আন্দোলনের ক্রেডিট নিতে ভাগাভাগি শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক দল আর ছাত্রদের মধ্যে।আন্দোলনকে যদি সত্যি সবাই ধারণ করত তাহলে অত্যন্ত  ৫ই আগষ্ট একসাথে পালন করত।

  বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতির অংকে সবাই ধরে নিয়েছে আগামী  সরকার গঠন করবে বিএনপি। এমন কথায় বলা  যায়, এক ধরনের নির্বাচন হয়ে গেছে।এটা কি তথাকথিত রাজনীতির বাইরে কিছু ঘটবে বলে মনে হয়। তবে বিগত ১৬ বছরের একতরফা নির্বাচনের কারনে ভোটের অংকটা আগের মত নেই।এখন তরুন প্রজন্ম আর আওয়ামী সমর্থকের ভোট নিয়ে ভাবতে হবে।এহিসাবের বাইরে জামায়াত ইসলাম মনে করছে দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী তাদের অনুসারী। তবে বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম  অনুসারী হলেও তারা ৭১ বিরোধী জামায়াতকে সাংসদ হিসাবে দেখতে চায়। এছাড়া এখন তারা ক্ষমা চাওয়ার যে নাটক করছে তার প্রমান মিলে তাদের নানা কর্মকান্ডে।  সবকিছু মিলিয়ে জুলাইয়ের ৩৬ দিন এখন কেবল রাজনৈতিক ভাষনের একটা অংশ মাত্র। দলগুলোর ভাব ভংগিতে মনে হয় জুলাই ছিল তাদের ভোটের অধিকার পাওয়ার আন্দোলন।  তা কিন্তু নয়।

সর্বতোভাবে সত্য হল, মা বাবারা সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যতে চেয়েছিল বলেই সন্তানদের গুলির মুখে প্রতিবাদ করতে যেতে সম্মতি দিয়েছিল। স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে শোষণহীন বৈষম্যবিরোধী সরকার পাবে কি পাবে না তা অনিশ্চিত।তাই তরুণদের দেখা স্বপ্ন কেবলই স্বপ্ন হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এটাই সত্য। আজ এটা বলতেই হবে বিগত ১৬ বছরে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে রাস্তায় নামাতে পারেনি। একইভাবে প্রবাসীদের পাশে পায়নি আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। কিন্তু দেশের মাটিতে নিজের সন্তানের মত আরেক  মায়ের সন্তানের গুলিবিদ্ধ দেহ বা লাশ দেখে তারা বসে থাকেনি। সোচ্চার হয়েছিল।  সব কিছুকে ভুলে গিয়ে জুলাই ঘোষণার নামে একটা দায়সার দলিল দিয়ে  ইউনুস সরকার  জুলাইয়ের আন্দোলনের ছাত্রদের স্বপ্নকে বিনাশ করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এত বড় আন্দোলন বারবার হয় না। তাই তরুণ প্রজন্মের নেতাদের ভাবতে হবে তাদের চলার পথ নিয়ে।কারণে  রাজনীতিতে আবেগের কোন দাম নেই। 

 হাসিনা আকতার নিগার,  লেখক - কলামিস্ট