NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

চীন পোল্যান্ডের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি মেনে চলতে ইচ্ছুক: সি চিন পিং


স্বর্ণা: প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

চীন পোল্যান্ডের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি মেনে চলতে ইচ্ছুক: সি চিন পিং

 


২৪ জুন বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে সফররত পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আনজেই দুদার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন যে, চীন পোল্যান্ডের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি মেনে চলতে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখতে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমাগত উন্নয়নকে উচ্চ স্তরে উন্নীত করতে ইচ্ছুক।

এই বছর চীন ও পোল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭৫তম বার্ষিকী। পোল্যান্ড সবার আগে চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকারী দেশগুলির মধ্যে একটি। সোমবারের আলোচনায় সি চিন পিং চীন-পোল্যান্ড সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন যে, আট বছর আগে আমরা যৌথভাবে চীন-পোল্যান্ড সম্পর্ককে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব উন্নত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা ব্যাপকভাবে প্রসারিত ও গভীর হয়েছে এবং সহযোগিতার ফলাফল দুই দেশের জনগণকে উপকৃত করেছে।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন যে, চীন-পোল্যান্ড সম্পর্কের উত্থান-পতনে টিকে থাকার মূল কারণ হল যে, উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব জাতির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে জ্ঞান ও শক্তি অর্জন করতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বাধীন বিকাশ মেনে চলতে পারে। উভয় পক্ষের উচিত চীন-পোল্যান্ড আন্তঃসরকারি সহযোগিতা কমিটির মতো প্রক্রিয়া ও প্ল্যাটফর্মের ভাল ব্যবহার করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সমন্বয় ও সহযোগিতার সামগ্রিক পরিকল্পনা জোরদার করা, যৌথভাবে "বেল্ট অ্যান্ড রোড" উচ্চ মানের সাথে নির্মাণ করা, চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন-এর মত প্রধান প্রকল্পে সহযোগিতা নিশ্চিত করা ও প্রচার করা। 

দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্প, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের সহযোগিতা শক্তিশালী করা উচিত। চীন চীনা বাজারে প্রবেশের জন্য আরও উচ্চ-মানের পোলিশ কৃষি ও খাদ্য পণ্যকে স্বাগত জানায়, দ্বিমুখী বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমর্থন করে এবং আশা করে যে, পোল্যান্ড চীনা উদ্যোগের জন্য একটি ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত এবং বৈষম্যহীন ব্যবসার পরিবেশ প্রদান করবে। চীন পোলিশ নাগরিকদের জন্য ১৫ দিনের একতরফা ভিসা-মুক্ত নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রক্রিয়ার টেকসই উন্নয়নের জন্য এবং চীন-ইইউ সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য পোল্যান্ড ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।

দুদা বলেন যে, ২০১৫ সালে চীনে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর এবং ২০২২ সালের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির স্মৃতি এখনও তার মনে আছে। চীনের সেই সফরটি চীনের উন্নয়নের মহান প্রাণশক্তি প্রত্যক্ষ করেছে।  ৭৫ বছর আগে পোল্যান্ড ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিকাশ সবসময়ই সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হয়েছে।

পোল্যান্ড দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে এবং যৌথভাবে "বেল্ট অ্যান্ড রোড" নির্মাণে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো, সংযোগ এবং জনগণের ক্ষেত্রে আদান-প্রদান ও সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং উদ্ভাবন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ব্যাটারি গাড়ির মতো নতুন ক্ষেত্রগুলি প্রসারিত করতে ইচ্ছুক।
 
তিনি বলেন, পোল্যান্ড আগামী বছরের প্রথমার্ধে ইইউ-এর আবর্তিত সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে। পোল্যান্ড ইইউ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক। উভয় পক্ষ ইউক্রেন সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেছে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন যে, চীন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সহায়ক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও টেকসই ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নির্মাণে উত্সাহিত করে। চীন তার নিজস্ব উপায়ে ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক।

আলোচনার পর, দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বেশ কয়েকটি নথি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উভয় পক্ষ "চীন ও পোল্যান্ডের মধ্যে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার কর্ম পরিকল্পনা (২০২৪-২০২৭)" জারি করেছে।
আলোচনার আগে, সি চিন পিং এবং তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান গণ-মহাভবনের পূর্ব গেটের বাইরে স্কোয়ারে দুদা এবং তার স্ত্রী আগাতার জন্য একটি স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

সেই রাতে, সি চিন পিং এবং ফেং লি ইউয়ান গণমহাভবনের ​​গোল্ডেন হলে দুদা এবং তাঁর স্ত্রীর জন্য স্বাগত ভোজসভার আয়োজন করেন।
সূত্র: স্বর্ণা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।