NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

জিআই পণ্যের মর্যাদা পেল বগুড়ার দই


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ০৯ জুন, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

জিআই পণ্যের মর্যাদা পেল বগুড়ার দই

এম. আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে : ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পেল বগুড়ার দইসহ চারটি পণ্য। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ২৬ জুনের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। জিআই স্বীকৃতি পাওয়া অন্য পণ্যগুলো হলো– শেরপুরের তুলসীমালা ধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম। এ নিয়ে দেশের ১৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেল। জানতে চাইলে ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জুন দই ছাড়াও তিনটিকে জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি পণ্য প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই এগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর ডিপিডিটিতে বগুড়ার দইকে জিআই পণ্য করার জন্য আবেদন করে জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। আবেদনের প্রায় সাড়ে চার বছর পর স্বীকৃতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী আলাল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ বগুড়ার দইয়ের স্বাদ নিয়েছেন। কিন্তু এগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এখন জিআই পণ্যের মর্যাদা পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলো। আশা করছি, ট্যারিফ লাইনেও বগুড়ার দইয়ের নাম শিগগিরই যুক্ত হবে।’

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদনে বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি উল্লেখ করেছিল, ‘প্রায় ১৫০ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের প্রয়াত নীলকণ্ঠ ঘোষ প্রথম এ দই তৈরি করেন। এরপর ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঁড়ে করে বাড়ি বাড়ি দই বিক্রি শুরু হয়। বগুড়ার দইয়ের স্বাদ নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন মহারানী ভিক্টোরিয়া ও রানী এলিজাবেথ। বগুড়ার দইয়ের সুনাম দেশজুড়ে। বিদেশেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে নিয়ে যান। এ দইয়ের স্বাদ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বগুড়ায় আসেন এবং দেশের প্রায় সব জেলাতেই পণ্যটি বাজারজাত হয়ে আসছে। বগুড়ার দই এ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে আমরা আশাবাদী এবং এটি আমাদের অধিকার।’আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিপিডিটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন হয়। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা তৈরির পর জিআই  পণ্যের নিবন্ধন নিতে আহ্বান জানায় ডিপিডিটি। এর পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি পায় জামদানি। এর পর একে একে স্বীকৃতি পেয়েছে ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন, বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হলো বগুড়ার দইসহ চার পণ্য। এখন থেকে পণ্যগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ৯৫টি পণ্যের তালিকা পাঠানো হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ে। জিআই পণ্য হিসেবে নির্বাচনে সেগুলো আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংস্থার (ডব্লিউআইপিও) সব শর্ত পূরণ করে কিনা, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এতদিনে মাত্র ১৫টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতি অর্জিত হলো। অথচ প্রতিবেশী ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন কন্ট্রোলার জেনারেল অব প্যাটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্ক জানাচ্ছে, দেশটির জিআই স্বীকৃত পণ্য ৩৭০টির বেশি। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করায় ভারতের কাছে নকশিকাঁথার মতো পণ্যের অধিকার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ডিপিডিটি সূত্র জানায়, অন্তত ২৪টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতির আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, কুষ্টিয়ার তিলেখাজা, কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম, নোয়াখালীর মহিষের দুধের দই, লতিরাজ কচু, সোনালি মুরগি, সাবিত্রী রসকদম, চাচুরি বিলের কৈ মাছ, নাক ফজলি আম, সুন্দরবনের মধু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি, জামালপুরের নকশিকাঁথা, ফুটি কার্পাস তুলা প্রভৃতি।