চীনের চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহরে,২২মে (শুক্রবার) ‘এপেক বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন, ২০২৬’, উদ্বোধন করা হয়। এবারের সম্মেলনে মূলত চার দিকের ওপর নজর রাখা হচ্ছে: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অবাধ বাণিজ্য এলাকার নির্মাণ, বহুপক্ষীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষা, ডিজিটাল সহযোগিতা, ও সবুজ অর্থনীতি। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে: ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠন; অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা’। 


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এপেক কাগজবিহীন বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট কাস্টমসসহ ডিজিটাল খাতে প্রচুর বাস্তব সহযোগিতা পরিচালনা করেছে। চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক মডেল ইলেকট্রনিক পোর্ট নেটওয়ার্ক, আঞ্চলিক বাণিজ্যের ডিজিটালাইজেশন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। 


চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, এপেকে যোগদানের পর গত ৩৫ বছর ধরে, চীন সমসময় এপেকের দৃঢ় সমর্থক ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী এবং এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সক্রিয় প্রবক্তা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। চীন ইতোমধ্যে এপেকের ১৩টি সদস্যের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এপেক সসদ্যের সাথে চীনের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৫৭.৮ শতাংশ। এর মধ্যে এপেক সদস্যদেশগুলো থেকে চীনের আমদানির পরিমাণ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। 


চীনে এপেক সদস্যদের বিনিয়োগ হয়েছে ৯০.৬১ বিলিয়ন ডলার এবং এপেক সদস্যদেশগুলোতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার। চীন ইতোমধ্যে ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের সাথে ২৪টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থ-বাণিজ্য পরিকল্পনা স্বাক্ষর করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিঙ্গাপুর ও পেরুর মতো এপেক সদস্যের সাথে চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করেছে। 

সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।