বিএনপি নিজের তাগিদে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবে: মওদুদ

New York Bangla
By New York Bangla মে ১৮, ২০১৩ ০০:০৮

আগামী বাজেট অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে বিএনপি। এমনই আভাস দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের আহ্বানে নয় বরং নিজেদের তাগিদে বিএনপি জনগণের প্রয়োজনে সংসদে যোগ দেবে। তবে সংসদে থাকা না থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের ওপর। সরকারের আচরণই বলে দেবে বিএনপি সংসদে থাকবে কী থাকবে না। সরকার একদিকে সংসদে আসার কথা বলবে অন্যদিকে বিএনপি সাংসদদের গ্রেফতার করবে এটা হতে পারে না। তিনি সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না মেনে সংলাপের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

9

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ফোরাম নামের একটি সংগঠন এই সভার আয়োজন করে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ১৩ মাসেও সন্ধান না দেয়ার প্রতিবাদে এবং দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান ও ইসলামিক টিভি খুলে দেয়ার দাবিতে স্বাধীনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ এ সমাবেশের আয়োজন করে। আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে সরকারের উদ্দেশে মওদুদ আরও বলেন, আগামী সংসদে আমরা অবশ্যই যাব। কিন্তু আমরা কত দিন থাকব এটা নির্ভর করবে সরকারের আচার-আচরণ ও ব্যবহারের ওপর। সরকার যদি কথা বলতে দেয়, যদি সম্মানের সঙ্গে কথা বলে, ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে, আমাদের নেতা-নেত্রীদের নামে বিষেদ্গার না করে, তাহলে অবশ্যই এই সংসদে আমরা কত দিন থাকব, তা বিবেচনা করব। তিনি বলেন, সরকার গত চার বছর ধরে সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছে। চার বছর ধরে সরকার এককভাবে সংসদ চালিয়েছ। বাজেট ও সমস্ত আইন এককভাবে পাস করেছে। এই সংসদের কার্যকারিতা বলতে কিছুই ছিল না।

তিনি বলেন, সংলাপ ও সংঘাতের রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। সরকার যে সংলাপের কথা বলেছে তা তাদের লোক দেখানো কৌশল ছাড়া কিছু নয়। সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলছে, অন্যদিকে নিজেরাই শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। সংলাপ নিয়ে সরকার স্ববিরোধিতায় নিয়োজিত। জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও বিদেশী চাপে সংলাপের কথা বলেছিল সরকার। এখন বলছে, সংলাপ হবে না। অথচ সংলাপের কথা বলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জনসমর্থন তাদের রয়েছে। যদি জনসমর্থন থাকে তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন? এ তত্ত্বাবধায়কের জন্য আপনারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। দেশে সংঘাত-বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছেন। এখন সেই তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিতে আপনাদের এত ভয় কেন?’

১৯৯৪ সালে নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট উত্তরণে কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব স্যার স্টিফেন নিনিয়ানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ওই সময়ে স্যার নিনিয়ান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দলের পাঁচজন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন, ওই ধরনের প্রস্তাব নির্দলীয় সরকারের নয়, দলীয় সরকারের। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একটি পত্রিকার জরিপের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৯০ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। এ নিয়ে বিশ্ব জনমতও সৃষ্টি হয়েছে। যতই চেষ্টা আর কৌশল করুন না কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করে এর অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতি গভীর সঙ্কটে আছে। এত গুম, এত খুন আর কোন দিন হয়নি। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার ও পত্রিকা বন্ধ দেখেই বোঝা যায় দেশে কোন্ ধরনের রাজনীতি চলছে। সারাদেশ ও পুরো জাতি আজ রাজনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্যাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

New York Bangla
By New York Bangla মে ১৮, ২০১৩ ০০:০৮
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*

সর্বশেষ খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ( বিকাল ৫:৫২ )
  • ২১ নভেম্বর, ২০১৭
  • ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯
  • ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ ( হেমন্তকাল )

বাংলা ক্যালেন্ডার

IMG_11152014_10_DEBDUT!