বিমানবন্দরে লাখো জনতার উষ্ণ গণসংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

MD Majumder
By MD Majumder অক্টোবর ৪, ২০১৫ ০৪:২৯

 

বাংলা অক্ষর ঢাকা থেকে

জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে আইসিটি এ্যাওয়ার্ড এবং ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ সম্মাননা পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে শনিবার দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শনিবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দেশে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পুষ্পবৃষ্টি আর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় সিক্ত করেন।

বিমানবন্দর থেকে গণভবন। সর্বত্রই এক অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ যেন জনারণ্য। চারদিকে উৎসবের আমেজে শুধু মানুষ আর মানুষ। জনতার ঢলে যেন জনসমুদ্র রাজপথ। শত শত পুলিশ, র‌্যাব, সোয়াত, গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়। আর নিরাপত্তায় এসএসএফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই টেকেনি তীব্র জনস্রোতের কাছে। প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে মানুষের তীব্র স্রোত নেমেছিল এই সুদীর্ঘ সড়ক পথে। লাখো মানুষ এ দীর্ঘপথে মানবঢাল রচনা করে তাকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।Ny sh AirDhaca 1

জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ ও ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’- এই দুটি বিরল আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করায় সুদীর্ঘ এ পথে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে এক অন্যরকম গণসংবর্ধনা দেয়। ফুল ছিটিয়ে, বাদ্য বাজনার তালে শ্লোগান আর রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বরণ করেন নেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে। গণভবনেও উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

অভূতপূর্ব সংবর্ধনা এবং মানুষের আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা জাতির সম্মান, মানুষের সম্মান। এই অর্জন জনগণের, জনগণের প্রাপ্য এই পুরস্কার। দুটি পুরস্কারই পুরো জাতির ও দেশের জন্য সম্মানের।
আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক সংবর্ধনার এই কর্মসূচী নির্ধারিত ছিল দুপুর দেড়টায়। কিন্তু সকাল ১১টা থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথের দু’ধারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ দাঁড়িতে থাকেন প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা জানাতে। দুপুর একটার মধ্যে মানুষের তীব্র স্রোতে দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার এই পথের কোথাও এতটুকুও ফাঁক ছিল না।NY SH 24

হাতে হাত ধরে কণ্ঠে শ্লোগান আর হাতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, ফুলের পাপড়ি নিয়ে বাদ্য-বাজনার তালে তালে দীর্ঘ এই পথ প্রকম্পিত করে রাখেন লাখো মানুষ। আয়জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারাও মানুষের এমন অবিশ্বাস্য ঢল দেখে স্বীকার করতে বাধ্য হন- এত মানুষ রাজপথে নামবে তা তাঁরা কল্পনাও করেননি এদিকে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা কেন্দ্র করে ব্যাপক শোডাউন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর এ গণসংবর্ধনায় নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল রাখতে একটি খোলা জিপে টহল দিয়ে বেড়ান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম। বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত ছিল তাদের টহল।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০০২নং ফাইটটি সিলেটে যাত্রাবিরতির পর দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে অভ্যর্থনা জানান কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, শিশু ও নারীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।Ny sh AirDhaca 3

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মতিন খসরু, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
অভ্যর্থনা শেষে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ জাতীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন হাতে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। লন্ডন থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সিলেট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলে সেখানেও তাকে দলীয় নেতাকর্মীরা অভ্যর্থনা জানান।

সকাল থেকেই এ পথের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রবাসী আওয়ামী লীগ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক নেতা, ক্রীড়াব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতিকর্মী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ পথে পথে দাঁড়িয়ে এ সংবর্ধনায় অংশ নেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নেতাকর্মী ও উৎসুক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি।Ny sh AirDhaca 2

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনের ফটকে পা রাখতেই রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধরী বন্যা গেয়ে ওঠেন- ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’। এ সময় উপস্থিত অন্যরা তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম, নিশাত মজুমদার প্রমুখ। এ অভ্যর্থনা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুণ চুপ করে থাকেন। এরপর বলে ওঠেন, এ অর্জন জনগণের, জনগণের প্রাপ্য এ পুরস্কার। দুটি পুরস্কারই পুরো জাতির ও দেশের জন্য সম্মানের।

তিনি হাসতে হাসতে আরও বলেন, দেশে ফিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দেখে শরীর ও মন দুটিই ভালো হয়ে গেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, অসীম কুমার উকিল, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনাকে সুশৃঙ্খল করতে আগে থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়ককে ৮টি রুটে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে ১৪ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব রুটে দাঁড়িয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, জাহিদ আহসান রাসেল, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, রাশেদ খান মেনন, একেএম রহমত উল্লাহ, সাবের হোসেন চৌধুরী, হাবিবুর রহমান মোল্লা, সানজিদা খানম, কামাল আহমেদ মজুমদার, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজী মো. সেলিম, এমপি ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সহ রাস্তার দুপাশে অবস্থান নেন।

গণভবনের সামনে সাংসদ ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে হাজারীবাগ ও ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ বহু নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিল।

 

MD Majumder
By MD Majumder অক্টোবর ৪, ২০১৫ ০৪:২৯
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*

সর্বশেষ খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ( দুপুর ১:০৩ )
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ২৯ জিলহজ্জ, ১৪৩৮
  • ৫ আশ্বিন, ১৪২৪ ( শরৎকাল )

বাংলা ক্যালেন্ডার

IMG_11152014_10_DEBDUT!