প্রবাসের বাংলা সপ্তাহিকীগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে

New York Bangla
By New York Bangla মে ২৪, ২০১৩ ২২:০০

সুব্রত বিশ্বাস, নিউইয়র্ক :- দু’একটি পত্রিকা ছাড়া প্রবাসের বেশিরভাগ বাংলা পত্রিকাগুলোর ভূমিকা মূলত এক ও অভিন্ন। এগুলো সমাজের কল্যাণে প্রকাশিত কিংবা কাজ করে সেটি বলার সঙ্গত কারণ দেখিনা। অন্যদিক নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের দায়বদ্ধতা সম্পর্কেও তাদের দায় আছে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। কোন বিশেষ উদ্দেশ্য থেকে একটি গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থই যেন তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বস্তনিষ্ঠতা একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু সেটি তারা রক্ষা করার প্রয়োজন মনে করেননা অথবা করতে চানও না। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব চিন্তা এবং বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যের প্রতিফলনই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কেননা, বেশিরভাগ পত্রিকার মালিক সেই বিশেষ গোষ্ঠীর অনুসারী বা পদলেহী। এক্ষেত্রে কোন সাংবাদিক নিরপেক্ষ কিংবা ভিন্ন মতের হলেও তার মতামত প্রতিফলনের সুযোগ থাকে না। তবে সাংবাদিকও তার বিবেক বুদ্ধি, মত ও চিন্তা বন্ধক দিয়েই চাকুরী করেন বলে মনে হয়। ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রোজগারের পথ কিংবা অবলম্বন হিসেবেই বেশিরভাগ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। তাই প্রকাশকের ভূমিকা নিতান্ত সুবিধাবাদী এবং প্রতিক্রিয়াশীলও বটে। খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন কোন পত্রিকা দেশের অনুসারী পত্রিকার কার্বন কপি হিসেবে কাজ করে। আবার কখনও আরো অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করে পরিবেশন করা হয়। সংবাদটি প্রকাশ করলে সমাজের ক্ষতি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে সেটি তাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং বিকৃত, অসত্য, অযৌক্তিক, তথ্যবিবর্জিত যে সংবাদটি পার্শ্ব ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি অবশ্যম্ভাবী সে ধরণের সংবাদ প্রকাশে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। মূলত প্রকাশক কিংবা মালিকের প্রগতিবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অবস্থানের কারণ থেকে বেশির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এ ধরণের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। 

সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের নাশকতামূলক কর্মকা-ে সরকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রবাসের পত্রিকাগুলো তাদের গোষ্ঠী স্বার্থের চরম পরিচয় রেখেছে। সংবাদ প্রকাশে তাদের একতরফা পক্ষপাতমূলক কার্বনকপির পাশাপাশি বিকৃত ও চাপিয়ে যাওয়ার নজির স্থাপন করেছে।

বলাবাহুল্য, ডলারে বিক্রি হয় প্রবাসের এমন তিনটি বাংলা পত্রিকা বাদ দিলে বাদবাকী সবগুলোই ফ্রি পত্রিকা। ফ্রি বলে তারা সমাজের স্বার্থে বা প্রয়োজনে তাদের শ্রম অর্থ মেধা নিঃস্বার্থভাবে বিলাচ্ছেন এমনটি ভাবার কারণ নেই। ফ্রি পত্রিকাগুলোর মধ্যে দু’টি এবং ডলারের বিনিময়ে তিনটির মধ্যে দু’টি, এই চারটির ভূমিকা বলা চলে চরম প্রতিক্রিয়াশীল। অর্থাৎ ঐ একই গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ। হেফাজতের ঘটনা নিয়ে ফ্রি পত্রিকার একটির প্রথম পৃষ্ঠায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা, লাশে সয়লাব, ট্রাকভর্তি লাশ গুম, উপমহাদেশে শতাব্দীর ভয়াবহ গণহত্যা, সাভারে লাশের সংখ্যা, গণহত্যা ৭১-এর ধবংসযজ্ঞকে ম্লান করেছে ইত্যাদি স্থান পেয়েছে। ডলারের বিনিময়ে বিক্রি হয় এমন দু’টি পত্রিকার একটিতে শাপলা চত্বর থেকে শত শত লাশ গুম, যৌথবাহিনীর অভিযান, রণক্ষেত্র, লাশ, আহত সহস্রাধিকসহ এজাতীয় আরো বিভিন্ন খবর রয়েছে। ভেতরে পুলিশের নির্যাতনের অকেগুলো ছবি। অপরটিতে বর্বর হামলার উল্লেখ থাকলেও অন্যান্যগুলোর ন্যায় বেলাল্লাপনা অনেকটা কম। ফ্রি পত্রিকার একটিতে হাইতির ভূমিকম্পের ছবি শাপলা চত্বরের লাশের ছবি হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ই মে ঘটনার দিন সকাল থেকে বিএনপি তাদের নাস্তা ও খাবার দিয়ে আপ্পায়ন করলো। খালেদা জিয়া রাতে হেফাজতের নাশকতা কর্মকা-ে তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। এ ঘটনার কিছুৃই এসব পত্রিকায় খবর হিসেবে স্থান পায়নি। সমস্তদিনব্যাপী রাজধানীর সর্বত্র ব্যাংক, অফিস, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, বাস ডিপোতে আগুন দেওয়া হয়। রাস্তার আইল্যা- ভেঙ্গে গাছপালা কেটে ফেলা হয়। এসবের কোন খবর বা ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তাদের খবরের সাথে পত্রিকায় স্থান পায়নি। তার চেয়েও আশ্বর্যের বিষয় বায়তুল মোকাররমের সামনে অসংখ্য ধর্মীয় বইয়ের দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে কয়েকশত কোরআন জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। দোকানের মালিকেরা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকের সামনে বুকফাটা ক্রন্দনে বলতে দেখা গেছে তাদের আহজারির কথা। তারা বলেছেন, এদেরকে তারা চেনেন। এরা সবাই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী। বিভিন্ন সময় তাদের হরতালের সময় এরা ককটেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে তাদেরকে তারা দেখেছেন। এরাই এক ধরনের সাদা পাউডার ছিটিয়ে ছিটিয়ে দোকানে আগুন ধরিয়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদ কমিটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছে, ৬০০শ কোরআন জ্বলেছে এবং সবই করেছে জামাত-শিবির। এসব একটি ঘটনারও উল্লেখ নেই। কিংবা ঘটনার ছবি তাদের পত্রিকায় স্থান পায়নি। অথচ অতীতে দেখা গেছে কোন সংখ্যালঘুকে জড়িয়ে কোরআন অবমাননা কিংবা ধর্ম অবমাননার ঘটনায় তারা কিভাবে ফলাও করে সংবাদ পরিবেশন করেছে। পাশাপাশি জানা গেছে জ্যামাইকা মসজিদের ইমাম মুসল্লিদের উদেশ্যে নাকি বলেছেন, শাপলা চত্বরে পুলিশের নির্যাতনে কয়েক হাজার লোক মারা গেছে। আসলে অপপ্রচারের সাথে পত্রিকা এবং তথাকথিত ধর্মধ্বজাধারীদের ভূমিকা একই সূত্রে গাথা। এবং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একে অপরের পরিপূরক।

গোষ্ঠীস্বার্থে এসব পত্রিকাকে অতীতে যেমন দেখা গেছে আজও একই ভূমিকা তারা পালন করে চলেছে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উস্কানীর উদ্দেশ্যে অন্য ধর্মের দুর্গাপূজা নিয়ে তারা সম্পাদকীয় লেখে ’অন্তঃসারশূণ্য’ আখ্যায়িত করে। চারদলীয় জোটের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতন তাদের দৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিত্রায়িত হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রায় কার্যকর করা নিয়ে তারা নিবন্ধ লিখে শিরোণাম দেয় ‘এরা খুনী নয়, এরা জাতীয় বীর’। ভারতীয় বিএসএফ-এর গুলিতে লোক মারা গেলে একজন মুসলমান মারা গেছে লিখে সাম্প্রদায়িকাতার উস্কানী দেওয়া হয়। গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থে সরকারের বিরোধীতা করতে সাংবাদিকতার নিয়মনীতি তাদের কাছে একান্ত মূল্যহীন। তাই সম্প্রতি একটি পত্রিকায় ইলিয়াস আলীর গুম হয়ে যাওয়া নিয়ে তথ্যপ্রমাণবিহীন গুরুত্বহীন একটি প্রচারপত্রের ভাষ্য বেমালুম পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় বেনার হেডিং দিয়ে ছাপিয়ে দেওয়া হয়।

এরূপ পত্রিকা, সম্পাদক এবং সাংবাদিক যারা আছেন, তারা রীতিমতো ভেবেচিন্তে উত্তেজনা সৃষ্টির ভূমিকা পালন করেন। তাদের কাছে কাগজের ছাপার অক্ষরকে স্পর্শকাতর করে তোলাই আসল কথা। তার জন্য তারা কোন ঘটনার সৎ বা বস্তুনিষ্ট উপস্থাপনার সঙ্গে আপোষ করতে দ্বিধা করেন না। এসব পত্রিকা, প্রকাশক, সাংবাদিক সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করছে বলে পাঠক ও বিজ্ঞ জনেরা মনে করেন। 

New York Bangla
By New York Bangla মে ২৪, ২০১৩ ২২:০০
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*

সর্বশেষ খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার ( রাত ৩:৩৩ )
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ২৯ জিলহজ্জ, ১৪৩৮
  • ৬ আশ্বিন, ১৪২৪ ( শরৎকাল )

বাংলা ক্যালেন্ডার

IMG_11152014_10_DEBDUT!