জিয়া এখন প্রমাণিত খুনী-একজন খুনীর কবর জাতীয় সংসদের পাশে থাকতে পারেনা

New York Bangla
By New York Bangla মে ২৪, ২০১৩ ২১:৫৬

সুব্রত বিশ্বাস,নিউইয়র্ক :- পচাত্তরের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর ধারাবাহিকভাবে অগণিত খুন ও হত্যাকা- সংগঠিত হয়েছে। এসব হত্যাকা-ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে জেনারেল জিয়ার পরোক্ষ ভূমিকার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে জিয়ার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিটি খুন ও হত্যাকা-ে জিয়া প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু তার দল এবং পরবর্তীতে এরশাদ ক্ষমতায় থাকার কারণে এসব হত্যাকা- কখনো আইন আদালতের কাছাকাছি আসতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে বিচার করা না যায় সেজন্য জিয়া ইনডেমিনিটি বিল পাশ করে বিচারকার্য বন্ধ রাখে। অন্যদিকে লোক দেখানো সামরিক আদালত গঠন করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্য এবং অফিসারকে হত্যা করে জিয়া। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে এসব খুন ও হত্যাকা-ের বিচারের উদ্যোগ নেয়। ইনডেমিনিটি বিল বাতিল করে প্রথমে বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েকজন খুনীকে গ্রেফতার করে পলাতকদের সহ সকল খুনীদের বিচারকার্য্য শুরু হয়। কিন্তু সাধারণ আদালতে বিচারকার্য্য শুরু করার ফলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময় সীমার মধ্যে বিচারকার্য্য শেষ হয়নি। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে বিচারকার্য্য বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিচারটি সম্পন্ন হয়। অনুরূপ প্রশ্নবিদ্ধ সামরিক আদলতের অনেকগুলো বিচার এখনও যথাযথভাবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এসবের মধ্যে জেলহত্যা মামলা ও কর্ণেল হত্যার মামলাটি পুর্নবিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ইতিমধ্যে জেলহত্যার রায় বেরিয়েছে। এবার কর্ণেল তাহের হত্যার বিচারের রায় বেরুলো।

বিজ্ঞ আদালত তাদের রায়ে তখনকার অবস্থা এবং ঘটনার সংস্পর্শে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও নানাবিধ সূত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রায় প্রদান করেছেন। তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়েছে, তাহেরের বিচার ও ফাঁসি ছিল ঠা-া মাথায় হত্যাকা-। এই বিচার ও হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগেই জিয়াউর রহমান কর্ণেল তাহেরের মৃত্যুদ- প্রদানের বিষয়ে মনস্থির করেন। সে অনুসারে অত্যন্ত ঠা-া মাথায় তাকে খুন করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, জিয়া আজ আর জীবিত নেই, সেকারণে তাকে শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই বিচারে জড়িত ও সহযোগী অন্ততঃ একজন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল আলী এখনও জীবিত। আদালত তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়েরের কথা বলেছেন। এছাড়া আরো কেউ জীবিত থাকলে তাকেও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে উল্লে করা হয়েছে। রায়ে লিফসুলঞ্জ ও অন্যদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, জেনারেল জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ এসেছে, যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনা এ মামলার বিচার্য বিষয় নয়। ওই সময় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা, সেন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাস ও সত্যের খাতিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, পঁচাত্তরের ১৫ই আগষ্টের পর জিয়াউর রহমানের কর্মকা- স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। জিয়া মুক্তিযুদ্ধের জয়বাংলা শ্লোগান মুছে ফেলেন। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের স্থান রেসকোর্স ময়দানকে সোরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিণত করেন এবং সেখানে শিশুপার্ক স্থাপন করেন। পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দেন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতাবিরোধী কর্ণেল মুস্তাফিজুর রহমানকে দেন মন্ত্রীর পদ। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সেনা কর্মকর্তাদের উচ্চপদে আসীন করেন। মামলার রায়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু ও তাহের হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং একজন প্রমাণিত খুনী।

বলাবাহুল্য, এই রায়ের ফলে কয়েকটি অকাট্য বিতর্কের অবসান হয়েছে। অন্যদিকে যারা জেনারেল জিয়াকে ধূয়া তুলসী পাতার অবতার (জেনে শুনে) বানিয়ে মাজার জিয়ারতের প্রবর্তন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও স্বাধীনতার ঘোষক আখ্যায়িত করে এতদিন মিথ্যার বেশাতি করেছেন তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে। অর্থাৎ জিয়া যে আসলেই একজন প্রকৃত খুনী, বিচারকবৃন্দ তাদের রায়ে সেটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, এমন একজন খুনীর মাজার জাতির পবিত্র স্থান সংসদ ভবনের পাশে রাখা যুক্তিসঙ্গত কিনা। কথা উঠতে পারে জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রথমত জিয়ার ক্ষমতায় আরোহনের ন্যায় চিলির পিনোচেট, ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো মিশরের আনোয়ার সাদাত সহ বিশ্বে আরো অনেক সামরিক জান্তা দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জিয়ার ন্যায় তারাও খুনী এবং নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে দেশের জনগণের কাছে বিশ্বের কাছে চিহ্নিত এবং পরিগণিত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত জিয়া ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুর্নবাসিত করে এবং হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করে তার মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করেছেন। সুতরাং খুনের অপরাধে এবং মুুিক্তযুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত একজন কুখ্যাত অপরাধীর কবর সংসদ ভবনের সামনে শোভা পায়না। সাথে সাথে রাখার দাবি এবং অধিকার দুই-ই গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিগ্রাহ্য হয়না।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, জিয়ার মাজারের নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ২৬টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ২০টি খুলে নেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভস্থ নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি তালাবদ্ধ। পর্যবেক্ষণ কম্পিউটারগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আস্তানা গেড়েছে মদখোর ও নানা অপরাধ চক্র। কিছু দালাল শ্রেণীর লোক এলাকায় পতিতা ও তাদের খদ্দরের নির্ভয়ে বিচরণের জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

সম্ভবত কোন অখ্যাত, অবাঞ্চিত খুনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক। যারা তাকে একজন খুনী জেনেও জিয়ারতের আখড়া বানিয়ে দেশের জনগণের বিবেকের প্রতি প্রতারণা করছে তারাও একই চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী। অর্থাৎ এরাও চরম প্রতারক। সুতরাং জাতির বিবেকের স্থান জাতীয় সংসদের পাশে একজন খুনীর মাজার কোন অবস্থাতেই রাখা যায়না এবং যুক্তিসঙ্গত নয়। তাছাড়া যে ক্ষতবিক্ষত লাশ কবরস্থ করা হয়েছে সেটি জিয়ার লাশ কিনা সে বিতর্কও রয়েছে। সুতরাং যতশীঘ্র সম্ভব এটি সরিয়ে ফেলা উচিত বলে মনে করি। শুধু সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়। স্বাধীনতার স্থপতি, যার আজীবন সাধনার ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ, তাকে রাখা হয়েছে জাতীয় দৃষ্টিচক্ষুর আড়ালে। অথচ তারই মাজার হওয়া উচিত ছিল সংসদের পাশে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে জাতি যে অকৃতজ্ঞতাবোধের কলঙ্কে জড়িয়ে আছে, বরং তার কবরস্থান টুঙ্গিপাড়া থেকে উঠিয়ে এনে সংসদ ভবনের সামনে স্থাপন করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হতে পারে। 

New York Bangla
By New York Bangla মে ২৪, ২০১৩ ২১:৫৬
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*

সর্বশেষ খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার ( রাত ৩:৩২ )
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ২৯ জিলহজ্জ, ১৪৩৮
  • ৬ আশ্বিন, ১৪২৪ ( শরৎকাল )

বাংলা ক্যালেন্ডার

IMG_11152014_10_DEBDUT!